রেললাইনের পাত ভেঙে রাজশাহী ও নাটোরে আটকে ছিল ৬ ট্রেন
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রেললাইনের পাত ভেঙে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ সময় পাশের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর ও রাজশাহী স্টেশনে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকে পড়ে। পরে জরুরি মেরামত শেষে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে ধীরগতিতে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর স্টেশনসংলগ্ন ২২৭/০ নম্বর রেল পিলারের কাছে রেললাইন ভাঙা দেখতে পান কর্তব্যরত রেলকর্মীরা। নিয়মিত পরিদর্শনের সময় বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। পরে তাঁরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।
খবর পেয়ে রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। এ সময় রাজশাহীর সঙ্গে সব ধরনের রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়। এতে স্টেশনে আটকে পড়ে ভোগান্তি পোহান সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, কমিউটার ও মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা।
কোনো দুষ্কৃতকারীদের কারণে রেলপাত ভাঙেনি। পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের অনেক রেলপাত ৫০ থেকে ৮০ বছর পুরোনো। এসব রেলপাতের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে এমন সমস্যা হচ্ছে।ফরিদ আহমেদ, পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক
ঘটনাস্থলে কর্মরত রেলওয়ের মিস্ত্রি (মেট) মোস্তাক আহমেদ বলেন, রেললাইনের ভাঙা অংশ শনাক্তের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর দ্রুত মেরামতকাজ শুরু করা হয়। আপাতত ভাঙা অংশ দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ মেরামত শেষ হলে ট্রেনের গতি স্বাভাবিক হবে।
সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রেললাইন ভাঙার খবর পান জানিয়ে আব্দুলপুর রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মাসুদ রানা বলেন, এরপরই ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মেরামত শেষে আটকে পড়া ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারীদের কারণে রেলপাত ভাঙেনি। পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথের অনেক রেলপাত ৫০ থেকে ৮০ বছর পুরোনো। এসব রেলপাতের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে এমন সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে পুরোনো রেলপাত নিয়মিত পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান শনাক্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।