বরিশাল সিটির ওয়ার্ড পরিক্রমা: ওয়ার্ড নম্বর ২৭
অধিকাংশ রাস্তা মাটির, পানি সরবরাহ নেই
এখনো বর্ষা এলে হাঁটুসমান পানি আর কাদামাখা পথ পাড়ি দিতে হয় বাসিন্দাদের।
বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলার সীমানাবর্তী ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটি আয়তনে ছোট হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সেবা পাননি ওয়ার্ডবাসী। অধিকাংশ রাস্তা এখনো মাটির। অনেক স্থানে ছোট সেতু করা হলেও তাতে সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে চলাচলে। পানি সরবরাহ, সড়কবাতি কিছুই নেই। ওয়ার্ডটির বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেও ভোটারদের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। তাই এখনো বর্ষা এলে হাঁটুসমান পানি আর কাদামাখা পথ পাড়ি দিতে হয় বাসিন্দাদের।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের রুইয়া, ইন্দ্রকাঠী, দিয়াপাড়া, ডেফুলিয়া ও করমজা এলাকা নিয়ে গঠিত ২৭ নম্বর ওয়ার্ডটির আয়তন মাত্র শূন্য দশমিক ৪৬ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ভোটার ৭ হাজার ১৫৩ জন।
গত ১৯ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা গেছে, কুদঘাটার পুল এলাকা থেকে নথুল্লাবাদ পর্যন্ত শের-ই-বাংলা সড়কের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা খালের একপ্রান্তে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং অপর প্রান্তে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর চলতে হয় ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে। ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ রাস্তা মাটির। খাল পারাপারের জন্য কোনো সেতু বা কালভার্ট নেই। এ কারণে স্থানীয় লোকজন নিজেদের অর্থায়নে খালের ওপর কাঠের তক্তা দিয়ে সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন। ফলে খালটির প্রবাহ বন্ধ হয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বেশ কিছু সেতু, তবে এসব সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, নির্বাচনের পর ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি তাঁরা। একটি সনদপত্র আনতে গিয়েও ঘুরতে হয়েছে একাধিকবার।
বারৈজ্যারহাটসংলগ্ন করমজা এলাকার হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা মানিক হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে শতাধিক মানুষের বসবাস। এহানে পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। সড়কবাতি নেই। তবে কাউন্সিলর আমাদের এখানে একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করেছেন।’
ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (৭০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘মোরা শহরে থাহি হুনি, কিন্তু দেহি তো চাইরদিক গ্রাম।’
ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলছেন, গত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডটিতে কুদঘাটার পুল থেকে বারৈজ্যার হাট পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার ছাড়া দৃশ্যত আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি গত দুই দশকেও। স্কুল-কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাবও রয়েছে সিটি করপোরেশনের বর্ধিত অংশের এই ওয়ার্ডটিতে।
গত নির্বাচনে এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম। সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন রেশমী বেগম। ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগের বিষয়ে কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেশমী বেগম বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বরাদ্দ পাইনি। যে কারণে সবখানে চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।’