গতকাল রোববার রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের গেলে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে সুতি ভরাট গ্রামের রতন মিয়ার স্ত্রী ছফুরা খাতুনের কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁর নাম ভিজিডি তালিকায় ছিল, তা তিনি জানতেন না। সংসারের দুরবস্থা দেখে তাঁর স্বামী রতন হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি প্রকল্পে নাম নিবন্ধন করতে যান। নিবন্ধন করানোর সময় ইউপির উদ্যোক্তার কাছ থেকে জানতে পারেন তিনি (ছফুরা) ভিডিডি প্রকল্পের উপকারভোগী। এতে তিনি অবাক হন। কারণ, তিনি গত ২১ মাসে ভিজিডির কোনো চাল পাননি। অথচ তাঁর দিন কেটেছে অর্ধাহারে।

একই ঘটনা ঘটেছে ঘাগড়া নারায়ণপুর গ্রামের আবদুল কাদিরের স্ত্রী রোকিয়া বেগম, উজান চরনওপাড়া গ্রামের আবদুল আজিজের স্ত্রী খোরশেদা খাতুন ও একই গ্রামের মুখলেছুর রহমানের স্ত্রী লতিফা আক্তারের সঙ্গে। তাঁরা ২১ মাস ধরে ভিজিডি প্রকল্পের বরাদ্দ পাননি।

ধুলায়ার চর গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বলেন, তিনি তিন মাস আগে কার্ডটি হাতে পেয়েছন। মাত্র তিন কিস্তি বরাদ্দ উত্তোলন করতে পেরেছেন। অথচ তাঁর প্রাপ্য ১৮ কিস্তি বরাদ্দ কারা উত্তালন করে নিয়েছে, তা তিনি জানতে পারেননি। একই অভিযাগ করেছেন উজান চরনওপাড়া গ্রামের তৈয়ব আলীর স্ত্রী হাফিজা খাতুন। কার্ড হাতে পাওয়া পর হাফিজা আট কিস্তি বরাদ্দ পেয়েছেন।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজীবপুর ইউনিয়নের ভিজিডি প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে বরাদ্দ বিতরণ শুরু হয়। প্রকল্পটি দুই বছর মেয়াদী। বর্তমানে প্রকল্পটি প্রায় শেষ হওয়ার পথে। অথচ চারজন উপকারভোগী প্রকল্পের পুরো সময় কোনো বরাদ্দ পাননি। আরও অনেকেই কম পেয়েছেন।

বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়টি সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান, সরকার কর্তৃক নিয়াজিত তদারক কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যের নজরে না পড়াটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রাজীবপুর ইউপির বিগত সময়ের চেয়ারম্যান এ কেম এম মোদাব্বিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়ে অপেক্ষা করার পরও তাঁর সাড়া মেলেনি।

চার উপকারভোগী অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত দল গতকাল ইউপিতে যায়।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. হাফিজা জেসমিন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।