২০ বছর পর চট্টগ্রামে আসছেন তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানফাইল ছবি: প্রথম আলো

দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সমাবেশ সফল করতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি সভা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। নেতাদের আশা, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আগামী শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতেই নগরে অবস্থান করবেন। পরদিন বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দলমত–নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তারেক রহমানের এই সফর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এর আগে অনেক সমাবেশ হয়েছে, কিন্তু এবারের সমাগম হবে ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান নিজে চট্টগ্রামে এসে কথা বলবেন—এটি মানুষ ভিন্নভাবে গ্রহণ করছে। এটি কোনো একক দলের কর্মসূচি নয়, এটি একটি জনসম্পৃক্ত আয়োজন।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। গতকাল দুপুরে
ছবি: জুয়েল শীল

তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে হিসাবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

যুবদলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি সভাসহ নানা প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান আসছেন—এতেই নেতা–কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের এক লাখের বেশি নেতা–কর্মী সমাবেশে অংশ নেবেন।

১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ প্রস্তুত

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে পলোগ্রাউন্ড মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। মঞ্চের পাশে খুঁটি তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মো. ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ দিন ধরে তাঁরা মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন।

মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ তদারক করতে দেখা যায় নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মঞ্চটি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রশস্ত। সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকবেন। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তার পরের অংশে সমাবেশে আসা মানুষ অবস্থান নেবেন।

১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রশস্ত করে তৈরি করা হচ্ছে মঞ্চটি
ছবি: প্রথম আলো

এ সময় সেখানে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে প্রথম আলোকে বলেন, শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির জন্য শুক্রবার বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।

তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনকে ঘিরে দলের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাঁর নেতৃত্বে দলের সংগ্রাম আরও দৃঢ় হবে এবং দেশের চলমান নির্বাচন পরিস্থিতি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী হবে। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে যেসব নির্দেশনা দেবেন, তা তাঁরা পালন করবেন।