ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বড় ঢেউ পদ্মা নদীর পাড়ের দোকানে আছড়ে পড়ে। এতে আক্কাছ মণ্ডল ও শাহিন শেখের খাবার হোটেল, এখলাস দেওয়ান, রফিক সরদার ও বাবলু খার মুদিদোকান নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তা ছাড়া পদ্মা সেতু চালুর পর দৌলতদিয়ায় যানবাহন ও যাত্রী কমে যাওয়ায় ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। সেই রাতে নদীর পাড়ে বেঁধে রাখা পাঁচটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের ওপর পাড় ভেঙে পড়ায় সেগুলো তলিয়ে যায়। দুটি ট্রলার উদ্ধার করা গেলেও তিনটির হদিস পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ খার দুটি ট্রলার এবং বাবু সরদারের একটি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলার আছে। ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ফেরিঘাট–সংলগ্ন সিদ্দিক কাজী পাড়ায় ভাঙনে ছয়টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মণ্ডল বলেন, ভাঙন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে বহুবার বলেছেন। শুধু শুনেই আসছেন নদী শাসন হবে, কিন্তু অগ্রগতি নেই। স্থানীয় সিদ্দিক কাজী পাড়া, শাহাদৎ মেম্বার পাড়া ও বাহির চর ছাত্তার মেম্বার পাড়ার ৩০০ পরিবারের সদস্যরা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে আছেন। এখন তাঁরা দ্রুত নদীশাসন দেখতে চান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য দৌলতদিয়ায় সাতটি ও পাটুরিয়ার পাঁচটি ঘাট ছিল। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দৌলতদিয়ার ১ ও ২ নম্বর ঘাট ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে, যা এখনো চালু হয়নি। ২৪ অক্টোবর ঝড়বৃষ্টি ও ভাঙনে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়। মেরামত শেষে ২৫ অক্টোবর ৪ নম্বর এবং ২৬ অক্টোবর ৩ নম্বর ঘাট চালু হয়। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর আরেক দফা ভাঙনে ৫ নম্বর ঘাট বন্ধ হয়ে এখনো চালু হয়নি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফা ভাঙনের কবলে পড়ে ফেরিঘাট। ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ফেরিঘাট সড়কের খুব কাছে ভাঙন চলে এসেছে। ফের ভাঙন হলে চারটি ঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ৭ নম্বর ঘাটের উজানে নতুন আরেকটি ঘাট চালু করতে উপজেলা প্রশাসনসহ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আবদুস সাত্তার বলেন, তিন দফা ভাঙনে দৌলতদিয়ার তিনটি ফেরিঘাট কয়েক দফা বন্ধ হয়। মেরামত করে চালু করলেও চারটি ঘাট ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করলে যানবাহন পারাপারে সমস্যা হতে পারে।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ৫ নম্বর ঘাটে চালুর বাস্তবতা নেই। পানি আরও কমলে সংযোগ সড়ক তৈরির পর ঘাট চালুর চেষ্টা করা হবে। ভাঙন প্রতিরোধে বিআইডিব্লউটিএ বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে। বিকল্প ঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত এলে করা হবে।