আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় সাতটি দেশের হাইকমিশনার, রাষ্ট্রদূত ও উপহাইকমিশনার এবং দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের স্মরণে প্রার্থনা করেন ফাদার পেট্রিক।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট সি ডিকসনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ময়নামতি পৌঁছায়। এ দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরিমি ব্রুয়ার, কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলাস, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার কামার আব্বাস খোখার, ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধি এম এস সাবারওয়াল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা।

হাইকমিশনার, রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিনিধিরা ময়নামতির যুদ্ধ সমাধির পশ্চিম পাশে অবস্থিত হলিক্রস পাদদেশে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্য দিয়ে নিহত সৈনিকদের স্মরণ করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ আর্টিলারি বিগ্রেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাব্বী আহসান। স্মরণ অনুষ্ঠান শেষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন এবং দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) শিউলি রহমান তিন্নী ও কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজল হোসেন।

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের পশ্চিম পাশে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচে  কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে ওই সমাধিস্থল। ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৭৩৮ জন সৈনিককে ময়নামতির এখানে সমাহিত করা হয়। ১৯৬২ সালে একজনের দেহাবশেষসহ সমাধির মাটি তাঁর স্বজনেরা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলে এখানে সমাধির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৩৭টিতে।

ময়নামতি সমাধিক্ষেত্রে ৫৬৭ জন নাবিক, ১৬৬ জন বৈমানিক ও ৩ জন সৈনিক ছিলেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৩৫৭ জন, কানাডার ১২ জন, অস্ট্রেলিয়ার ১২ জন, নিউজিল্যান্ডের ৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১ জন, অবিভক্ত ভারতের ১৭১ জন, রোডেশিয়ার (বর্তমান জিম্বাবুয়ে) ৩ জন, পূর্ব আফ্রিকার ৫৬ জন, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬ জন, বার্মার ১ জন, বেলজিয়ামের ১ জন, জাপানের ২৪ জন ও পোল্যান্ডের ১ জন। কমনওয়েলথ গ্রেভ ইয়ার্ড কমিশন এ যুদ্ধ সমাধিক্ষেত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।