ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংঘর্ষ
পুলিশের হেফাজতে থাকা শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত, দুজনকে বহিষ্কার করল ছাত্রদল
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে দুই বন্ধুর বিরোধের জেরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এমবিবিএস-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ মুয়াজকে আটক করে হেফাজতে নেওয়ার পর ছাত্রাবাস ত্যাগের সময় পুলিশের সামনেই তাঁর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীর বড় ভাই আহমদ শফি ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের দুজনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস-৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমানের সঙ্গে পেট্রলপাম্প থেকে তেল আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. আমানুল্লাহ মুয়াজের বিরোধের সূত্রপাত। এর জেরে আসামিরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রাবাসে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে গত শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বাঘমারা এলাকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হোস্টেল থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকের সামনে আমানুল্লাহ মুয়াজের ওপর হামলা করা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, নাফিউল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমানুল্লাহর মাথায় আঘাত করেন। পরে সহপাঠী, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা ও পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ সদস্য মুয়াজকে নিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের হচ্ছেন। প্রধান ফটকের কাছে পৌঁছানোর সময় হঠাৎ তাঁর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে একজন আঘাত করেন।
হামলার ঘটনায় নাফিউল ইসলামকে আটক করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম।
এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত (রুতাব) এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আবদুল্লাহ বলেন, গত পরশু রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রাথমিক তথ্য, ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তানভীর আবদুল্লাহ বলেন, ‘মো. আমানুল্লাহ মুয়াজ মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে কথা বললে মীর হামিদুর রহমান খুব শাসায়। তারা দুজনেই ছাত্রদলের কর্মী। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও প্রথম দফায় মারামারি হয়। সে সময় মো. আমানুল্লাহ মুয়াজকে আঘাত করলে কবজিতে ফ্র্যাকচার হয়। পরবর্তী সময় মুয়াজ একাই লোহার পাইপ দিয়ে হামিদুরের মাথায় আঘাত করে। হামিদুরকে হাসপাতালে নেওয়ার পর পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রাবাসের সবাই মুয়াজের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং আমরা সবাই তার বিরুদ্ধে ছিলাম কারণ, সে কাজটি খারাপ করেছে। তখন তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’
তানভীর আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আমাদের সবার কথা ছিল, যেহেতু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত, সেহেতু এটি রাজনৈতিকভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সবাই মিলে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলি। কিন্তু হামিদুরের মাথায় আঘাতের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট খারাপ আসায় তার গ্রুপটি বেশি উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখন মব করার চিন্তা করতে থাকে। তখন পুলিশকে বলি থানায় নিয়ে মুয়াজের বিরুদ্ধে আইনি যা পদক্ষেপ তা যেন নেওয়া হয়। পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এখন মুয়াজের অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল।’
ঘটনা প্রসঙ্গে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ নিয়ে আসার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ আক্রমণ ঘটে। তাদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের দায় আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।