খুলনায় বিশেষ অভিযানে আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার, ধরা পড়েছে গজাল রানা ও বি–কোম্পানির সদস্য

গত সাত দিনে খুলনায় বিশেষ অভিযানে চার শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশছবি: প্রথম আলো

খুলনায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত সাত দিনে যৌথ অভিযানে মোট ৪০২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ কেএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে খুলনা থানার তিনজন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার আট, লবণচরা থানার ছয়, হরিণটানা থানার তিন, খালিশপুর থানার আট, দৌলতপুর থানার তিন ও খানজাহান আলী থানার একজন রয়েছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে সন্ত্রাসী রানা ওরফে গজাল রানা (৩৫) ও একাধিক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া চিহ্নিত সন্ত্রাসী আশিক গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ও খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মো. লেলিন হাওলাদার (৩৪), মো. হোসেন মুন্সি (২৪), নয়ন (২২), হাফিজুল ওরফে মো. সোহেল (৪০), মাদক ব্যবসায়ী মিজান ও বি–কোম্পানির সক্রিয় সদস্য ও মাদক ব্যবসায়ী রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদকসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করে কেএমপি। তবে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচিত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। খুলনা মহানগর ও জেলায় বর্তমানে ৯টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম বেশি আলোচিত। এর মধ্যে রয়েছে রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর ‘বি–কোম্পানি’, শেখ পলাশের ‘পলাশ গ্রুপ’, হুমায়ুন কবীরের ‘হুমা বাহিনী’, আরমান শেখের ‘আরমান গ্রুপ’, শাকিল শেখের ‘শাকিল গ্রুপ’ ও নাসিমুল গণির ‘নাসিম গ্রুপ’। এ ছাড়া আশিক বাহিনী, নূর আজিম গ্রুপ ও টেংকি শাওন গ্রুপ আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রয়েছে গ্রেনেড বাবুর নেতৃত্বাধীন বি–কোম্পানিকে ঘিরে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে খুলনা নগরে ১৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গণ–অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে প্রথম আলোয় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।