হত্যা মামলার আসামি শ্বশুরবাড়িতে পালিয়ে ছিলেন, ধানের গোলা থেকে গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মুন্টু হোসেন। গতকাল রোববার দুপুরে মাদারীপুরের রাজৈর থানায়ছবি: প্রথম আলো

হত্যাকাণ্ডের পর দুবার জায়গা পরিবর্তন করেন আসামি। একবার করেছেন মুঠোফোনের সিম পরিবর্তন। সর্বশেষ দূরে শ্বশুরবাড়িতে পালিয়ে গিয়ে ধানের গোলার ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রোববার দুপুরে তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই ব্যক্তির নাম মুন্টু হোসেন (৫০)। তিনি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থানার মোড় এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তেকালা গ্রামের একটি মাঠে থাকা বাঁশের মাচার ওপর সামিরুল শাহ (৬০) নামে এক চা বিক্রেতা মুন্টুর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সামিরুল তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের আদি বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়। তবে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তাঁরা দৌলতপুরের তেকালা গ্রামে বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সামিরুলের বড় ছেলে আবু সাঈদ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন মুন্টু হোসেন।

ঘটনার পর মুন্টু পালিয়ে ছিলেন। গতকাল রোববার দুপুরে তাঁকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, জবানবন্দিতে মুন্টু দাবি করেছেন, সামিরুলের কাছে তিনি কয়েক লাখ টাকা পেতেন। সেই টাকা তিনি ফেরত দিতে অস্বীকার করে আসছিলেন। এ জন্য কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে তিনি (মুন্টু) একা তাঁকে হত্যা করেছেন। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও ঝোপের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পাওনা টাকা নিয়ে সামিরুলের সঙ্গে মুন্টুর বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রথম আলোকে জানান দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে মুন্টু তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে বৈঠক করার কথা বলে সামিরুলকে ডেকে নেন। এরপর রাতে সামিরুলকে নিয়ে তেকালা মাঠের ভেতরে সড়কের পাশে একটি মাচায় বসে একটু জিরিয়ে নেন দুজন। জায়গাটি নির্জন, আশপাশে কোনো বসতবাড়ি নেই। গল্প করতে করতে একসময় সামিরুলের ঘুম ঘুম ভাব আসে। তিনি মাচায় শুয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন মুন্টু। হত্যার পর ছুরিটি ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোপে ফেলে দেন। মুন্টুর দেখানো জায়গা থেকেই রোববার রাতে সেই ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মুন্টু ওই রাতেই ফোন বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী মেহেরপুরের গাংনীতে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যান। এরই মধ্যে মুন্টু নতুন আরেকটি সিম কিনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে নতুন সিম দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়া পুলিশ রাজৈর থানার পুলিশের সহযোগিতায় মুন্টুর শ্বশুরবাড়িতে যায়। এ সময় মুন্টু ওই বাড়ির উঠানে রাখা ধানের গোলার ভেতর শুয়ে ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে গোলার ভেতর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানায় নেওয়া হয়।