২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দুইটার দিকে ইউএনওর সরকারি ডাকবাংলোতে ওয়াহিদা খানম ও তাঁর বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা তদন্তের কাজ শুরু করে। ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাহিদ হাসান পলাশসহ অর্ধশত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থার সদস্যরা। র‍্যাবের অভিযানে আটক হন উপজেলা যুবলীগের সদস্য আসাদুল ইসলামসহ নির্মাণশ্রমিক সান্টু ও নবিরুল ইসলাম।

পরে তদন্তের ভার পুলিশের হাতে এলে ইউএনওর বাসভবনের কর্মরত রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ১২ সেপ্টেম্বর রংপুর রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে হামলাকারী হিসেবে রবিউলের নাম নিশ্চিত করেন।

২০ সেপ্টেম্বর রবিউল দিনাজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৭–এর বিচারক ইসমাইল হোসেনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দিনাজপুর আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বলেন, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলায় মোট ৫৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামি রবিউল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। আজ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী ও ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দি ও মামলার বিভিন্ন আলামত পর্যবেক্ষণ শেষে এ রায় দিয়েছেন। এ রায় দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সামসুর রহমান পারভেজ বলেন, এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেও আসামির সাজা কম হয়েছে। ৩০৭ ধারায় যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাতে আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।