ময়মনসিংহে অপসারণ করা হয়নি আ.লীগের সম্মেলনের তোরণ, ফেস্টুন, বিলবোর্ড
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত শনিবার। এর কয়েক দিন আগ থেকে নগর ছেয়ে যায় তোরণ, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে, যা আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত অপসারণ করা হয়নি।
এসব প্রচারণায় আনুমানিক এক কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। আজ ময়মনসিংহের একাধিক ডেকোরেটর, ছাপাখানা ও বাঁধাইয়ের প্রতিষ্ঠানের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ ধারণা পাওয়া গেছে।
এমন প্রচারণা ও খরচের বিষয়টি কয়েক দিন ধরে নগরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। আজ দুপুর পর্যন্ত নগরের সড়কগুলোতে ওই সব তোরণ, ফেস্টুন, প্যানাফ্লেক্স দেখা গেছে।
একাধিক ডেকরেটরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরজুড়ে অন্তত ২০০ তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি তোরণের নির্মাণব্যয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। এ হিসাবে কেবল তোরণ নির্মাণেই ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরামুল হক (টিটু) প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সম্মেলনের আগে তোরণ, ফেস্টুন করেছেন অনেকেই। হয়তো একটু বেশিই হয়ে গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন এসব তোরণ, ফেস্টুন অপসারণ করবে।
প্রচারণা রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হলেও এবার জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রচারণা ছিল অন্য যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির চেয়ে অনেক বেশি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে এসব প্রচারণার ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরে ঘুরে দেখা গেছে, মাসকান্দা বাইপাস এলাকা থেকে চরপাড়া হয়ে সার্কিট হাউস মাঠ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অগণিত তোরণ, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। মাসকান্দা বাইপাস থেকে চরপাড়া পর্যন্ত রয়েছে ৪১টি তোরণ। দুই পাশে বড় বড় অগণিত ফেস্টুন।
সড়ক বিভাজকের ওপরে ও সড়কের দুই পাশে একটু পরপর বাঁশের খুঁটিতে ফেস্টুন বাঁধা হয়েছে। এতে নগরজুড়ে মানুষের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন।
মাসকান্দা বাইপাস এলাকার তিনটি গোলচত্বর ঢেকে ফেলা হয়েছে ফেস্টুন দিয়ে। বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা বলেন, গোল চত্বরগুলো ঢেকে দেওয়ার কারণে গাড়ি চালানোর সময় বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। চরপাড়া থেকে নতুন বাজার হয়ে সার্কিট হাউস মাঠ পর্যন্ত সড়কে অনেক তোরণ ও ফেস্টুন রয়েছে।
স্থানীয় একটি ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে তিনি ৭০টি তোরণ নির্মাণ করেছেন। প্রতিটি তোরণের নির্মাণে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ শহরে গ্রাফিকস ডিজাইন ও ছাপাখানার প্রতিষ্ঠান রয়েছে শামীম আশরাফের। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সম্মেলনের এক মাস আগে থেকেই প্রচারণার কাজ পেতে থাকেন। সম্মেলনের আগের দিন পর্যন্ত অন্তত ৩০ লাখ টাকার কাজ করেছেন। আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান এসব কাজ করেছে।
নগরের নতুন বাজার রেলক্রসিং এলাকায় কাঠের ফ্রেমে ফেস্টুন বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়। আজ সোমবার ওই এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আকারভেদে প্রতিটি ফেস্টুন কাঠের ফ্রেমে বাধাঁইয়ে খরচ পড়ে ১৪০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর প্যানাফ্লেক্স করতে খরচ হয় অন্তত ৪৫০ টাকা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত তোরণ ও ফেস্টুন করাটা আমি মনে করি অপচয়ই হয়েছে। অর্থের অপচয় ছাড়াও এ জন্য অপরিপক্ব বাঁশ ও গাছ কাটা হয়েছে। এগুলো অপসারণের ফলেও পরিবেশের ক্ষতি হবে। এরপরও এসব তোরণ ও ফেস্টুন দ্রুত অপসারণ করা হোক, এটাই চাই।’