মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বরের সমর্থকেরা উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর মোল্লার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় আবু জাফর মোল্লার সমর্থকেরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার জেরে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা বীর মুক্তিযোদ্ধা এলেম শেখের দিয়াপাড়া গ্রামে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ওই সময় তারা এলেম শেখকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় ৯ জুলাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এলেম শেখের স্ত্রী জয়গুন বেগম বাদী হয়ে সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বরসহ ৩৬ জনকে আসামি করে সালথা থানায় মামলা করেন। ওদুদ মাতুব্বরকে এই মামলার হুকুমের আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান সালথা উপজেলা কমান্ডের সভাপতি মো. মাহবুব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জান-ই-মারজানা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। ওই স্মারকলিপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এজাহারভুক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ফরিদপুরের ছয় নম্বর আমলি আদালত পুলিশের জিআরও শ্যামল মিত্র জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলার মামলার আসামি সালথা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বরসহ ৩৬ আসামির মধ্যে ৩৩ জন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। ওই আদালতের দায়িত্বরত অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ বাছাড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের জিআরও শ্যামল মিত্র আরও জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এলেম শেখের বাড়িতে হামলা মামলার বাকি ২২ আসামির জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক। এ আদেশের পর জামিনা না পাওয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাতুব্বরসহ ১১ আসামিকে আদালত থেকে জেলা কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

ওদুদ মাতুব্বর সালথার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়া গট্টি গ্রামের হোসেন মাতুব্বরের ছেলে। ২০০৮ সালের শেষের দিকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন