উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) উপজেলা কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরে তিনতলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে কাজটি পায় বাছেদ প্রকৌশলী ও মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনকে এই কাজের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভবন নির্মাণকাজের শেষ সময়সীমা ছিল। তিনি যথাসময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনতলা বিশিষ্ট ওই ভবনের ওপর তলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বসার জন্য হলরুম, প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর নতুন এই ভবন উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতন। উদ্বোধনের ২২ মাস পেরিয়ে গেলেও ভবনটিতে দোকান ও ব্যবসায়িক কোনো প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া হয়নি। এমনকি মুক্তিযোদ্ধারাও সেটিকে ব্যবহার করছেন না।

ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমি ভবনটির নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করে এটি এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ভবনটি উদ্বোধনও করেছেন। এখন এটিতে আমার আর দায়িত্ব নেই।’

উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবায়ের পাশা বলেন, উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনটি নির্মাণ করা হলেও এটি যে উদ্দেশে৵ করা হয়েছে, সেটি এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির তালুকদার ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের দয়ালপুর আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নোয়াব আলী বলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি উদ্বোধন হয়েছে কি না, সেটি আমাদের কাউকে জানানো হয়নি। নতুন এই ভবন আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। এটি দেখভাল করার কেউ না থাকায় অযত্ন–অবহেলায় বিভিন্ন আসবাব নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ভবনটি অনেক আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলোতে বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য ছয় মাস আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও আগ্রহী কেউ না থাকায় কক্ষগুলো ভাড়া দেওয়া যাচ্ছে না। কক্ষগুলো ভাড়া দিয়ে এই ভবনের কেয়ারটেকারের বেতনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ মেটানোর কথা রয়েছে।