রাশেদুলের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাশেদুল শরীয়তপুর জজকোর্টের সহকারী কৌঁসুলি ছিলেন। গত বুধবার স্ত্রী, সন্তান ও কয়েকজন আত্মীয় নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিজের মাইক্রোবাসে করে গ্রামের দিকে রওনা হন। ঢাকার উত্তরায় পাঁচজন আত্মীয়কে নামিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুরের দিকে রওনা হন। তখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাশেদুল হক। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে নড়িয়ার জামতলা এলাকায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি খাদে পড়ে যায়। তখন সবাই পানিতে ডুবে যান। পরে চালক কামরুল হাসান সবাইকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাশেদুল ও তাঁর মেয়ে মাইশাকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

রাশেদুলের গাড়ির চালক কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা থেকে ভাইয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। কয়েক দফা তাঁকে বলে আমি গাড়িটি চালাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। জামতলা এলাকায় আসার পর তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। গাড়িটি তখন ছিটকে খাদের পানিতে পড়ে যায়। আমরা সবাই পানিতে তলিয়ে যাই। তখন সড়ক ছিল ফাঁকা। উদ্ধার করার জন্য কাউকে পাইনি। ৮ থেকে ১০ মিনিটের চেষ্টায় আমি গাড়ি থেকে বের হই। তখন একে একে সবাইকে গাড়ি থেকে বের করি। ততক্ষণে ভাইয়া ও তাঁর ২ বছরের মেয়ে প্রাণ হারায়।’

আজ সকাল ১০টার দিকে রাশেদুল হকের বাড়ি দাদপর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাশেদুল ও তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন, গ্রামবাসী ও আইনজীবীরা সেখানে এসেছেন। স্ত্রী মিলি আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। মিলি আক্তার বলেন, ‘ছোট মেয়েটা আমার কোলে ও বড় মেয়েটা পাশে বসে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছিল। গাড়ি চলছিল, হঠাৎ গাড়িটি ছিটকে পড়ে যায়। এরপর আর কিছু মনে নেই। আমি এখন মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব? কে আমাদের আগলে রাখবে?’

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, রাশেদুল হক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি।