চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাড়িতে গৃহবধূ, তালা দিয়ে পালাল পরিবার
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে প্রেমিক দাবি করে এক তরুণের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছেন এক গৃহবধূ (২৫)। সঙ্গে আছে তাঁর চার বছরের মেয়ে। আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তাঁদের সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে সিয়াম (২৬) নামের ওই তরুণের বাড়ির ফটকের সামনে অবস্থান নেন গৃহবধূ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর সিয়াম তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ওই গৃহবধূর অবস্থানের পর সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করলেও সিয়ামকে বিয়ে ছাড়া কোনো সমাধান মানবেন না বলে জানিয়েছেন ওই গৃহবধূ।
ওই গৃহবধূ স্বামীর সঙ্গে আগে একই এলাকায় থাকতেন। পরে স্বামীর কর্মসূত্রে তিনি রংপুরে চলে যান। সিয়ামের বিয়ের খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে আসেন। ওই গৃহবধূর ভাষ্য, প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হয়। সিয়াম তাঁর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। একদিন প্রতিবেশী বিষয়টি দেখে ফেলেন। তখন তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যান সিয়াম। এরপরও বিয়ের আশ্বাসে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, সিয়াম এক তরুণীকে বিয়ে করতে গেছে। এ খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১০টার দিকে তার বাড়িতে এসেছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।যুবকের বাড়িতে অবস্থানকারী গৃহবধূ
ওই গৃহবধূ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পারি, সিয়াম এক তরুণীকে বিয়ে করতে গেছে। এ খবর পেয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১০টার দিকে তার বাড়িতে এসেছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।’
এ বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সিয়ামের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় একটি চক্র ওই গৃহবধূকে ব্যবহার করে সিয়ামের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ইউপি সদস্য এমদাদুল হক বলেন, সিয়াম গতকাল রাতে বিয়ে করেছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ওই গৃহবধূ সিয়ামকে ছাড়া কোনো কিছুই মানবেন না বলে জানিয়েছেন। ওই গৃহবধূর অভিভাবকদের আসতে বলা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’