নাহিয়ানের স্বজনদের বরাত দিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কুয়াকাটা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, মামা-খালুসহ ২৩ জনের একটি দলের সঙ্গে আজ সকালে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসে নাহিয়ান। সকালে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর বেলা একটার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে গোসল করার জন্য সমুদ্রে নামেন তাঁদের দলের কয়েকজন। এ সময় তাঁরা যে যাঁর মতো সমুদ্রে নেমে গোসল করছিলেন। তখন নাহিয়ান সৈকতের তীর ঘেঁষে ফেলা জিও টিউবের ওপর বসেছিল বলে স্বজনেরা জানান। একপর্যায়ে তাঁকে কোথাও দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন স্বজনেরা। তবে স্বজনদের কয়েকজন জানান, সবার দেখাদেখি নাহিয়ানও সাঁতার কাটতে সমুদ্রে নামে। যদিও সে সাঁতার জানত না।

আবুল কালাম আজাদ আরও বলেন, ইতিমধ্যে তাঁরা স্কুলছাত্র নিখোঁজের খবর পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের ২০০ ফুট দূরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে কুয়াকাটার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাহিয়ানের খালু মো. আলী আজম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দলের কয়েকজন গোসল করতে সমুদ্রের পানিতে নামেন। নাহিয়ান সাঁতার জানত না। এ জন্য সে সৈকতের তীরে ফেলা জিও টিউবের ওপর বসেছিল বলে শুনেছেন। সে কৌতূহলী হয়ে সবার দেখাদেখি সাঁতার কাটতে সমুদ্রে নেমেছিল নাকি অসাবধানতাবশত সমুদ্রের পানিতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা তাঁরা বলতে পারছেন না।

কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসক আশিকুর রহমান রিজভী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। পানিতে নেমেছিল বলে স্বজনদের কাছ থেকে জেনেছেন। পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোহাম্মদ আবুল খায়ের প্রথম আলোকে বলেন, স্বজনেরা মৃতের লাশ নেওয়ার জন্য বলেছেন। তিনি জানতে পেরেছেন ওই ছেলের বাবা ক্যানসারের রোগী। তার মায়ের সঙ্গে তিনি কথা বলার চেষ্টা করছেন। তাঁর কোনো অভিযোগ না থাকলে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে কোনো অভিযোগ পেলে লাশের ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন