জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রাম থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল কমে গেছে। অনেকে প্রতিষ্ঠান বাস বন্ধ রেখেছে। যাঁরা বাস চালাচ্ছেন, তাঁরা ভাড়া নিচ্ছেন বেশি। উপায় না দেখে তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। আজ শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাস টার্মিনালে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, গাজীপুর ও বেনাপোলে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি বাস পরিচালনা করে এস আলম বাস সার্ভিসের অলংকার কাউন্টার। কিন্তু আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত একটি বাসও এই কাউন্টার থেকে ছেড়ে যায়নি। আজকের দিনে আপাতত বাস চালানোর প্রস্তুতি নেই বলে জানান কাউন্টার ম্যানেজার মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে ভাড়া দিয়ে গাড়ি চালালে প্রচুর লোকসান হবে। এর মধ্যে সকাল থেকে কিছু শ্রমিক বাধা দিয়েছেন গাড়ি চলাচলে। এরপর রাস্তায় গ্যাঞ্জাম লাগলে এর দায়ভার কে নেবে? এখন মালিকপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চালানো হবে।

এস আলস বাস সার্ভিসের কাউন্টারের নিচের তলায় রয়েছে কুমিল্লাগামী বাস তিশার কাউন্টার। কুমিল্লায় এত দিন এসি বাসের ভাড়া ছিল ৩০০ ও নন–এসি ২৪০ টাকা। কিন্তু আজ সকাল থেকে নেওয়া হচ্ছে যথাক্রমে ৩৫০ ও ২৯০ টাকা। বাস কাউন্টারের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, মানুষ ‘চিপায়’ পড়ছে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে হলেও গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। আর তাঁদেরও কিছু করার নেই। এখন যে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা–ও কম বলে দাবি করেন তিনি।

অফিসের কাজে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য এ কে খান গেটের হানিফ কাউন্টারে আসেন চাকরিজীবী ফরহাদ উদ্দিন। এই রুটের ভাড়া দাবি করা হয় ৬২০ টাকা। অথচ আগের ভাড়া ছিল ৫৮০ টাকা। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারের লোকদের কী বলব? তেলের যে দাম বাড়ছে, তাতে ভাড়া বাড়বেই। এমনিতেই বর্তমান বাজারে সবকিছুর দাম বাড়তি। যে বেতন, তা দিয়ে পরিবার নিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হয়। এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল। তার প্রভাব পড়বে সবখানে। সামনে কী যে হবে, তা নিয়ে এখন থেকে দুশ্চিন্তায় শুরু হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন