তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি রহস্যজনক। শুধু ডাকাতির ঘটনা হলে ওই গৃহবধূকে কুপিয়ে জখম করা হতো। তবে ওই গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। নিহত মারুফা বেগম মিলন খানের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রায় ১০ বছর আগে মিলন খানের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়। এর কিছুদিন পর মারুফাকে বিয়ে করেন মিলন। মারুফার সঙ্গে মিলন খানের পারিবারিক কলহ ছিল বলে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

আহত মিলন খানের ভাই সবুজ খান বলেন, গতকাল রাত দেড়টার দিকে বাসার কলাপসিবল গেট ভেঙে ডাকাত দল ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা নগদ আড়াই লাখ টাকা ও তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। মারুফা এতে বাধা দিতে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় মিলন তাঁর স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ডাকাত দলের হামলায় তিনি আহত হন। পরে স্বজনেরা টের পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন, মারুফার লাশ মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর মিলনের মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে এবং হাত-পা রশি দিয়ে খাটের সঙ্গে বাঁধা ছিল।

ডাকাতি নাকি হত্যাকাণ্ড জানতে চাইলে মিলন খানের ভাই সবুজ বলেন, ‘এটা তো প্রাথমিকভাবে ডাকাতি মনে হচ্ছে। কারণ, দুর্বৃত্তরা গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সবকিছু নিয়ে গেছে।’

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। কারণ, ওই গৃহবধূকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, আক্রোশ থেকেই এটা করা হয়েছে। পুরো বিয়ষটি পুলিশ তদন্ত করছে। নিহত গৃহবধূর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী মিলন খান পুলিশের নজরদারিতে আছেন।