হামলা করে বিজিবির অভিযানে জব্দ চালের ট্রাক ছিনতাই, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য অভিযোগে চালের ট্রাক জব্দের সময় বিজিবি সদস্যদের ঘিরে ধরেন একদল মানুষ। ৩ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার নয়নপুর বাজারেছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বিজিবির অভিযানে হামলা চালিয়ে ভারতীয় চোরাচালানের মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপির নেতা–কর্মীসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে সুলতানপুর (৬০ বিজিবি) ব্যাটালিয়ানের অধীন কসবার সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

কসবা থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য বাসমতী চালের ট্রাক আটক করেন বিজিবির সদস্যরা। বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারীদের ঝামেলার ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দেওয়া হয়েছে।

মামলায় বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, বায়েক ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি স্বপন মিয়া এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হুমায়ুন মিয়াসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে।

মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ৩ জুন সকাল ১০টার দিকে কসবার বিজিবির সালদানদী বিওপির সুবেদার মো. মাসুদের নেতৃত্বে বিজিবির ল্যান্স নায়েক দিদার হোসাইন, সিপাহি ফেরদৌস আলম, মো. ইমাম, মো. তারেক ও মো. মোস্তাফিজ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদক উদ্ধারের টহলে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির সদস্যরা জানতে পারেন যে নয়নপুর এলাকার চোরাচালান কারবারি সাইদুল হক, আল আমিন মিয়া, হুমায়ুন মিয়া ও শরিফ মিয়াগণ অবৈধভাবে সরকারি কর/ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় বাসমতী চাল এনেছেন। ট্রাকভর্তি বাসমতী চাল কসবার নয়নপুর বাজারের পূর্ব পাশে স্থানীয় উত্তমের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে পাকা রাস্তার ওপর অবস্থান করছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সালদানদী বিওপির সদস্য ও শশীদল বিওপির সদস্যসহ এক প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে নয়নপুর বাজারের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে ট্রাকভর্তি বাসমতী চাল আটক করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিদের উসকানি, প্ররোচনা এবং হুকুমে অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ আসামি দেশি অস্ত্রশস্ত্র দা, তরবারি, রামদা, কিরিছ, লোহার রড, পল, চল, লাঠিসোঁটা ইত্যাদি নিয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে সরকারি কাজে বিজিবিকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিজিবির সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে বিজিবির ল্যান্স নায়েক দিদার হোসাইন, সিপাহি মো. ফেরদাউস, মো. ইমাম, মো. তারেক ও মো. মোস্তাফিজ আহত হন। আসামিরা লোহার রডসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। তাঁরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিজিবির অস্ত্রসহ সরকারি সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিজিবির সদস্যদের হত্যার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, খবর পেয়ে কসবার বিজিবির মাদলা, খাদলা ও মইনপুর বিওপির ১৩ জন সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁরা বিক্ষিপ্তভাবে হামলা করলে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ঘটনায় জড়িত আসামিদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করতে থানায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জানতে চাইলে বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, ‘এই ব্যবসার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত না। আমাকে বিনা করণে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। যদি আমার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে প্রচলিত আইনে আমার বিচার হবে।’ তারা কোন পথ দিয়ে এই মালামাল আনে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। আমি এই ব্যবসা করি না।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোনাফ প্রথম আলোকে বলেন, বিজিবির সদস্যদের আহত করে চোরাচালানের পণ্যবোঝাই ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। চোরাকারবারিদের হামলায় বিজিবির কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।