এলাকাবাসী জানান, আজ দুপুরে রফিকের পক্ষের দুজন শ্রমিক নদীর পাড় থেকে ট্রলিতে মাটি নিয়ে রাস্তা দিয়ে না গিয়ে ইউপি সদস্য মাসুকের পক্ষের লোকজনের বাড়ির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে ইউপি সদস্য মাসুকের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা, রামদা, ছুরি, টেঁটা-বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন মোতাহার হোসেন (৪৩), রিপন মিয়া (৪৫), ইমরান হোসেন (৩৫), ফালু মিয়া (৩৫), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), হাকিম মিয়া (৪৫), আলিম মিয়া (২৭), লিলু মিয়া (৪৫), জসিম মিয়া (৪০) ও মতিন মিয়া (৭০)। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অভিজিৎ রায় প্রথম আলোকে বলেন, গোয়ালনগরের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২০ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, রফিক মিয়ার লোকজন নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে ট্রলিতে করে রাস্তা দিয়ে না গিয়ে তাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন বাড়ির লোকজন রাস্তা দিয়ে মাটি নিয়ে যেতে বলেন। এর জেরেই তাঁরা সংঘর্ষে জড়ান। পরে তাঁদের লোকজনও পাল্টা হামলা চালান।

মাসুক মিয়া আরও বলেন, ‘গত ইউপি নির্বাচনে রফিকের ভাতিজা সেলিম সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। এ নিয়ে এখনো দ্বন্দ্ব চলছে। রফিকের গোষ্ঠী প্রভাবশালী। এক মাস ধরে তারা আমাদের লকডাউন দিয়ে রাখছে। গতকাল বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানসহ সরদারদের জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে রফিক মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, নদীর পাড় থেকে ট্রলিতে করে মাটি নেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষই রাত আটটা পর্যন্ত  মামলা করেনি।