চট্টগ্রামের বিভিন্ন মোড়ে কেন ‘গেম অব থ্রোনস’–এর আদলে জামায়াতের আমিরের পোস্টার

চট্টগ্রাম নগরে গেম অব থ্রোনস সিরিজের আদলে আমায়াতের আমিরের পোস্টার। হালিশহরের বড়পুল থেকে তোলাছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’–এর সুপরিচিত একটি সংলাপ, ‘উইন্টার ইজ কামিং।’ ২০১১ সালে সিরিজের শুরুতেই শেষ সময়ের সতর্কবার্তা ও বিপদের প্রতীক ইঙ্গিত করে দেওয়া হয় এই সংলাপ। এবার এই স্লোগান দেখা গেল চট্টগ্রামের সড়কে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় সাঁটানো হয়েছে এই সংলাপ লেখা ব্যানার। তবে সিরিজের মূল চরিত্রের স্থানে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি।

আজ সোমবার নগরের হালিশহর ও চকবাজার এলাকায় এই ব্যানার দেখা গেছে। ব্যানারে ‘গেম অব থ্রোনস’–এর মূল চরিত্র জন স্নোর স্থলে জামায়াতের আমিরের ছবি দেওয়া হয়েছে। ছবিতে জন স্নোর তলোয়ারের আদলে দাঁড়িপাল্লা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। পুরো ব্যানারের পটভূমিতে তুষার ও নেকড়ের ছবি রয়েছে। একেবারে নিচে লেখা, দাদু ফ্যান ক্লাব সিটিজি।

‘গেম অব থ্রোনস’ সিরিজের শুরুতে দর্শকদের পরিচয় করানো হয় এমন এক জগতের সঙ্গে, যেখানে শীতের রুক্ষতা ও ভয়ংকর বিপদের ছায়া বিরাজ করছে। এই বিপদের মূল রহস্যময় শক্তি হলো হোয়াইট ওয়াকারস। সিরিজের মূল ক্ষমতার লড়াই আটটি প্রধান হাউস বা পরিবারকে কেন্দ্র করে। এই আট পরিবারের একটি স্টার্ক পরিবার। তাদেরই মূলমন্ত্র ছিল ‘উইন্টার ইজ কামিং’। এর অর্থ কঠিন সময় আসছে, সতর্ক হও।

আজ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের। কক্সবাজারের মহেশখালী, সদর, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ায়, সীতাকুণ্ডে ও চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠসহ পাঁচটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁর চট্টগ্রামের আগমনের দিন এমন পোস্টারে বিব্রত জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। এ ব্যাপারে তাঁরা জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

চট্টগ্রাম নগরে গেম অব থ্রোনস সিরিজের আদলে আমায়াতের আমিরের পোস্টার। নগরের চকবাজারের গুলজার মোড়ে
ছবি: প্রথম আলো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাদু ফ্যান ক্লাব সিটিজি লিখে সার্চ দিয়ে একটি পেজ পাওয়া যায়। সেখানে নগরের চকবাজার মোড়ে গুলজার টাওয়ারের সামনে থাকা ব্যানারটির ছবি রয়েছে। পেজটি খোলা হয়েছে গতকাল রোববার। একই নামে আরেকটি গ্রুপ পাওয়া গেছে। এটিও খোলা হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে। এসব ছবি শেয়ার করছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে কেউ কেউ সমালোচনাও করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমন কিছু শুনিনি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এমন কোনো ব্যানার লাগানো হয়নি। আমাদের ব্যানারগুলো সংগঠনের নাম দিয়েও টাঙানো হয়েছে।’