ভৈরবে সোনার পুতুল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার দুই

প্রতারণা
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সোনার পুতুল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে লোভ দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকা থেকে আটকের পর তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন বাদল মিয়া (৪২) ও রুহুল আমিন (৪০)। তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার টানক্ষমী গ্রামে। পুলিশ বলছে, বাদল ও রুহুল আমিন একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। ওই চক্রের সদস্যরা কখনো জিনের বাদশা, কখনো কবিরাজ আবার কখনো সোনার নকল পুতুল নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে লাখ লাখ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জানান, বাদল ও রুহুল আমিন মূলত সোনার গয়না তৈরির কারিগর। চার মাস আগ থেকে তাঁরা ভৈরবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাঁরা বেশ কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করে সফল হন। চার মাস আগে দড়ি চণ্ডীবের এলাকার একটি পরিবারকে একটি নকল সোনার পুতুল দিয়ে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তাঁরা। এ ছাড়া তাঁরা ১৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধুনগর গ্রামের মাসুদ মিয়ার মেয়ে শান্তা বেগমের কাছ থেকে ৩৯ হাজার ৮৫০ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।

শান্তা বলেন, একটি অপরিচিত ফোনকল ধরতে গিয়ে চক্রের সদস্যের সঙ্গে কথা হয়। তখন তাঁরা নিজেদের জিনের বাদশা পরিচয় দেন এবং আর্থিক সমস্যা সমাধানের লোভ দেখান।

পরে টাকা ও স্বর্ণালংকারে বিনিময়ে তাঁকে একটি নকল সোনার পুতুল দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
গতকাল চক্রের ওই দুই সদস্য চণ্ডীবের এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে সোনার পুতুল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তখন ওই পরিবারের কয়েকজন এসে চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা ধরা পড়েন।

শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ বলেন, গ্রাম পর্যায়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বেশ সক্রিয়। চক্রের সদস্যরা এরই মধ্যে অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারিত হওয়ার কিছুদিন পর বিষয়টি সবার মধ্যে প্রকাশ পায়। প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার বিকল্প নেই।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাকছুদুল আলম, জনতার হাতে আটক দুই ব্যক্তি একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। তাঁদের দ্বারা এরই মধ্যে অনেকে প্রতারিত হয়েছেন।
প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বাদল মিয়া। তবে তিনি বলেন, এ চক্রের মূল হোতা তাঁর ভাই কাজল মিয়া।

রুহুল আমিন বলেন, বাদলের ডাকে তিনি আসেন। আসার আগে জানতেন না তিনি প্রতারণার কাজে যুক্ত হচ্ছেন।