সুন্দরবন থেকে হরিণের চারটি মাথা ও মাংস উদ্ধার

নৌকায় রাখা হরিণের চারটি মাথাসহ মাংস উদ্ধার করা হয়। বুধবার ভোরের দিকে সুন্দরবনের শিবসা নদীর পূর্ব পাশের কেওড়াতলা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

সুন্দরবন থেকে হরিণের চারটি মাথা ও ৬০ কেজি মাংস উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বিশেষ টহল দল।

গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে সুন্দরবনের শিবসা নদীর পূর্ব পাশের কেওড়াতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকা ফেলে পালিয়ে যান শিকারিরা।

বন বিভাগের বিশেষ টহল দলের অধিনায়ক সাবিত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের শিবসা নদী ধরে কেওড়াতলা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে ভোরের আবছা আলোয় অনেকগুলো জেলে নৌকা দেখতে পাই। নৌকাগুলো সুন্দরবনে মাছ শিকার করে লোকালয়ে ফিরছিল। আমরা একে একে নৌকায় থাকা জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র আছে কি না যাচাই করছিলাম। এর মধ্যে একটি নৌকায় দেখতে পাই, কোনো মানুষ নেই। আমাদের ট্রলারটি নিয়ে ওই নৌকার কাছে গিয়ে পরিত্যক্ত নৌকাটি তল্লাশি করি। তখন নৌকার ভেতর একটি পাত্রে বরফ দেওয়া অবস্থায় ৬০ কেজি হরিণের মাংস আর চারটি হরিণের মাথা পেয়েছি।’

বন বিভাগের বিশেষ টহল দলের অধিনায়ক সাবিত মাহমুদ আরও জানান, এই টহল দলে সুন্দরবনের আদাচাই টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানও ছিলেন। টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যান চোরা শিকারিরা। জব্দ করা হরিণের মাথা ও মাংস খুলনার আদালতে পাঠানো হয়েছে। দুপুরে আদালতের নির্দেশে সেগুলো নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

এর আগে ১৭ এপ্রিল মোংলার জয়মনিরঘোল এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩১ কেজি হরিণের মাংস, একটি মাথা ও চারটি পা উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত কোস্টগার্ডের অভিযানে ৬০০ কেজি হরিণের মাংস, ৮টি হরিণের চামড়া, ২০০টির বেশি ফাঁদসহ ২০ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানান কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক।

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, সুন্দরবনে যাঁরা হরিণ শিকার করেন, তাঁরা জেলের ছদ্মবেশে সুন্দরবনে ঢুকে দড়ির একধরনের ফাঁদ হরিণের চলাচলের পথে পেতে রাখেন। চলাচলের সময় হরিণ সেই ফাঁদে আটকে যায়। এরপর বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরিণ জবাই করে বনের ভেতর থেকেই মাংস কেটে লোকালয়ে এনে তা বিক্রি করা হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘হরিণ শিকারের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি। শিকারে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্যদাতাকে পুরস্কার দিচ্ছি। তবে শিকার ও পাচারের লাগাম টানতে হলে আমাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’