সরেজমিন রাজগঞ্জ বাজারে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে মাছের পরিমাণ কম। যে পরিমাণ মাছ উঠেছে, তার ৯০ শতাংশই দেশীয় প্রজাতির। এর মধ্যে বড় আকারের কই মাছের কেজি ৬০০-৭০০ টাকার মধ্যে, মাঝারি মানের কই কেজি ৫০০ টাকা ও ছোট কই মাছ ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা মাছের কেজি ৮০০ টাকা, শিং মাছের কেজি ১ হাজার টাকা, মাগুর মাছও ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে, শোল মাছের কেজি ৭০০ টাকা, বড় আকারের বোয়াল মাছের কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা করে, ছোট আকারের বোয়ালের কেজি ১ হাজার টাকা, টাকি মাছের কেজি ৪০০ টাকা, মেনি মাছের কেজি ৬০০-৭০০ টাকা, পুঁটি মাছের কেজি ৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছের কেজি ৪৫০ টাকা, বাইম মাছের কেজি ৬৫০ টাকা। 

একই অবস্থা দেখা গেছে টমছমব্রীজ বাজার, রানীর বাজারেও। সেখানেও দেশীয় প্রজাতির মাছ উঠেছে। এ ছাড়া নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ সড়কের লাগোয়া তিনটি পয়েন্টে (ট্রান্সকম শোরুম, কুমিল্লা আইন কলেজ ও রানীর বাজার মন্দিরের পাশে) দেদারে বিক্রি হচ্ছে দেশীয় মাছ। নগরের মনোহরপুর সোনালী ব্যাংকের সামনের সড়কের কিনারায়ও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে। 

রাজগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রবিউল আলম বলেন, এখন দেশীয় প্রজাতির মাছের সিজন (মৌসুম) শুরু হয়েছে। পরিবহন খরচ বেশি ও বেশি দামে মাছ কিনে আনার কারণে গ্রাম থেকে শহরে মাছের দাম বেশি। 

রাজগঞ্জ বাজার থেকে নিয়মিত মাছ কেনেন স্থানীয় টিন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, এই সময়ে দেশীয় প্রজাতির মাছে বাজার ভরে যায়। দাম অনেক চড়া। সব শ্রেণির ক্রেতা এ মাছ কিনতে পারবেন না। সবার পাতে তা জুটে না। এ মাছের স্বাদ বেশি।

জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফ হোসেন বলেন, এই সময়ে সব জায়গায় পানি কমতে শুরু করে। তখন প্রচুর মাছ ধরা পড়ে। হেমন্ত ও শীতকালে দেশীয় মাছের জোগান বেশি। ঋতু পরিক্রমায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। প্রাকৃতিক এসব মাছের চাহিদা সর্বত্রই রয়েছে।