চুরির অভিযোগ তুলে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর–হুমকি, প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

লাশপ্রতীকী ছবি

রাজবাড়ীতে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এর আগে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে ওই বৃদ্ধের পুত্রবধূকে হত্যার হুমকি দেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। গতকাল রোববার সকালে সদর উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শমসের শেখ (৬৮)। তিনি রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। অভিযুক্ত বরকত শেখ (৪৫) একই গ্রামের আবদুল মজিদ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শমসের শেখ পশ্চিম গৌরীপুর গ্রামে বসতবাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তাঁর ছেলে লাভলু সরদার মালয়েশিয়াপ্রবাসী। বাড়িতে শমসের শেখ, তাঁর স্ত্রী, পুত্রবধূ হাসনা বেগম ও নাতি বসবাস করেন।

গতকাল সকালে সাহ্রি খেয়ে শমসের শেখ মসজিদে যান। এর মধ্যে প্রতিবেশী বরকত শেখ বাড়িতে ঢুকে মোটরপাম্প ও মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে বাধা দিলে গৃহবধূ হাসনা বেগম ও তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যার হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর নামাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন শমসের শেখ। ভাঙচুর ও হুমকির প্রতিবাদ জানালে শমসেরকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বরকত। গুরুতর আহত অবস্থায় শমসেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ ঘটনায় গতকাল বিকেলে বরকতকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত শমসের শেখের স্ত্রী নিলুফা বেগম। ওই মামলায় বরকতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

বরকতকে মাদকসেবী উল্লেখ করে শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন কাসেম বলেন, ওই দিন মোটরপাম্প চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরকত মাদকাসক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বরকতকে আটক করে। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।