সিরাজগঞ্জে দুর্নীতির মামলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কারাগারে
দুর্নীতির মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পাবনা বিশেষ জজ আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৫ সালে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ দুপুরে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল আলম প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ পাবনা জেলার সুজানগর থানার হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গতকাল রোববার রাতে দুদকের একটি দল তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জারির আদেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই বছরের ৩ জুলাই সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখেছেন, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে ছেলে ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পান দুদক কর্মকর্তারা। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রদান করেন। এ সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানকালে জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেন। মামলায় জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান ও আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। এসব মামলায় রোববার রাতে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।