মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত রাতে ক্যাম্পাসে পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও আহতদের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের মাঠে শাকিল আহমেদ ও আহসান হাবিব গল্প করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউছার আহম্মেদের অনুসারী কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা ওই দুজনকে হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেই কক্ষে তাঁদের দুজনকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। তাঁদের কিল-ঘুষি ও খেলার স্টাম্প দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে শাকিল আহমেদ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে সাধারণ ছাত্ররা বিষয়টি টের পেয়ে ওই কক্ষ থেকে তাঁদের দুজনকে উদ্ধার করেন। এই খবর অন্য অংশের ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে পৌঁছায়। পরে তাঁরাও ক্যাম্পাসের মির্জা আজম হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় আহ্বায়ক কাউছার আহম্মেদসহ তাঁর অনুসারীরাও সেখানে উপস্থিত হন। উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় চারজন আহত হন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিএনপি পরিবারের সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক করার প্রতিবাদ ও তাঁদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন করার অপরাধে মারধর করা হয়।

চিকিৎসাধীন এহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক ও নুর-এ-জান্নাতকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৫৩ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তাঁরা শুনেছিলেন। হঠাৎ ৩১ জুলাই কাউছার আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও তাইফুল ইসলামকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৬৩ সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন করা হয়। সেই কমিটির আহ্বায়ক কাউছার আহম্মেদের বাবা মো. আনোয়ার হোসেন বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা। ফলে ছাত্রলীগের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিতে পারছেন না। এই নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ক্যাম্পাসে বিএনপি পরিবারের সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক করার প্রতিবাদ ও তাঁদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছিল। মানববন্ধন করার অপরাধে কাউছার আহম্মেদের নেতৃত্বে তাঁদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতা হলে কাউছার কখনো ছাত্রলীগের নেতাদের এভাবে মারধর করতে পারতেন না।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউছার আহম্মেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলের কক্ষে আহসান হাবিব ও শাকিল আহমেদকে মারধর করা হয়নি। তাঁরা দুজন কক্ষের মধ্যে মাদক সেবন করছিল। তৃতীয় তলার এক জুনিয়র শিক্ষার্থী বিষয়টি দেখে ফেলে। ফলে তারা দুজন ওই জুনিয়র শিক্ষার্থীকে কক্ষে নিয়ে জোর করে সেবন করাতে চেষ্টা করে ও নির্যাতন করে। এই ঘটনাকে আড়াল করতেই তাঁরা ক্যাম্পাসের হলের সামনে অবস্থান নেন এবং ভাঙচুর করেন।’ তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসে ছিলেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন