আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাইল ছেড়ে নিশ্চিত করতে হবে, আমরা এই ক্যাম্পাসে চাকরি করি। আমরা অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ বলে যাচ্ছি, আমাদের ফাইল কেন বন্ধ হলো?
টিটো মিজান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

টিটো মিজান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে সারা পেপার–পত্রিকায় ছাত্রলীগের নাম দেখতে পাওয়া গেছে। এর ধিক্কার জানাই। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কিন্তু আমার সংগঠন ছাত্রলীগের যে নাম লেবাস দেওয়া হয়েছে, সেটা একটা কুচক্রী মহল ফাঁসানোর জন্য এই নাম নিয়েছে। অতি উৎসাহী একটা গ্রুপ এটা করেছে। সাবধান হয়ে যান, জননেত্রী শেখ হাসিনার বাংলায় দালালি বিএনপির প্রেতাত্মা নিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাইল ছেড়ে নিশ্চিত করতে হবে, আমরা এই ক্যাম্পাসে চাকরি করি। আমরা অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ বলে যাচ্ছি, আমাদের ফাইল কেন বন্ধ হলো?’

এদিকে রোববার দুপুরে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব ও উপরেজিস্ট্রার আইয়ুব আলী এবং ব্যক্তিগত সচিব-২ সহকারী রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান মোল্লা লিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে একটি আবেদনপত্র দেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, টিটো মিজান ও রাসেল জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন বহিরাগত শনিবার দুপুরে তাঁদের কক্ষে গিয়ে চড়াও হয়। কক্ষে ভাঙচুর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছ করা হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তছনছ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে দুরূহ হবে। এ ঘটনায় তাঁরা দুজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান তাঁরা।

বিকেলে আবেদনপত্র সংযুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিকে মামলা এজাহারভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, যেটার পুরোটায় উপাচার্যকে আহত করা হয়েছে। উপাচার্যকে আঘাত করা মানে বিশ্ববিদ্যালয়কে আঘাত করা। বিশ্ববিদ্যালয়কে আঘাত করা মানে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করা। যেখানে লেখাপড়া হয়, সেখানে এ ধরনের ঘটনা হতে পারে? চাকরির বিষয়ে একটা সিস্টেম আছে। হামলা ভাঙচুর কাম্য নয়। এটা মেনে নেওয়া যায় না, ন্যক্কারজনক ঘটনা। প্রশাসনকে প্রতিহত করতে হবে। তা না হলে আরও মারাত্মক ঘটনা ঘটবে।’

ওই ঘটনায় প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেবে। প্রক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ছাত্রলীগের নামে মিছিল হয়েছে। তবে তাঁরা ক্যাম্পাসের কেউ না। আলটিমেটাম সম্পর্কে আমার জানা নেই। কর্তৃপক্ষের কাছে কেউ কোনো লিখিত জানায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখছে।’

হামলাকারীরা আগের উপাচার্যের মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন হাজিরায় শ্রমিকের কাজ শুরু করেছিলেন। বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাঁরা চাকরির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে আসেন। তাঁদের একটি ‘অস্থায়ী চাকরিজীবী পরিষদ’ নামে সংগঠন আছে। যাঁর সভাপতি টিটো মিজান ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দার। টিটো মিজান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য রোববার রাত ৮টার পর রাসেল জোয়ার্দার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নাই। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আজকের পত্রিকা ও অনলাইনের সংবাদ পড়ে জানতে পারি। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

ফাইল ছাড়তে সময় বেঁধের দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাসেল জোয়ার্দার সংগঠনের সভাপতি টিটো মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরে টিটো মিজানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা ১০৪ জন রয়েছি, যাঁরা ৫ থেকে ১৫ বছর ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করছি। বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর এই চাকরি বন্ধ করে দেন এবং গোপনে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিব পর্যায়ক্রমে ৩৪ জনকে স্থায়ী করিয়ে নিয়েছে। বাকিগুলো স্থায়ী করার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যকে বলা হয়। তিনি একটি কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। এ জন্য আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।’ টিটো মিজান আরও বলেন, ‘হামলা ভাঙচুর কারা করেছে জানি না। তবে যাঁরা করেছে তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির দাবি জানাই। সিসি টিভির ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে ১৮ থেকে ২০ জন যুবক উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন। এর মধ্যে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিটো মিজান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দার। তাঁরা একটি ফাইল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। তিনি (আইয়ুব আলী) কিছু জানেন না বললে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব ভাঙচুর ও ফাইলপত্র তছনছ করেন। এ সময় আইয়ুব আলী ও আরেক উপরেজিস্ট্রার মোল্লা শফিকুল আলম ঠেকানোর চেষ্টা করলে তাঁরা গালাগাল ও হুমকি দেন। পরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা চলে যান।