ব্যর্থতার জন্য কাউকে শাস্তির আওতায় আনা বড় কথা নয়, মূল লক্ষ্য হাম প্রতিরোধ করা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সোমবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘অতীতের ব্যর্থতার জন্য কাউকে শাস্তির আওতায় আনা বড় কথা নয়, মূল লক্ষ্য হলো হাম রোগ প্রতিরোধ করা। আমরা প্রথম দিন থেকেই শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি। আগের সরকারের সময়ে সঠিক সময়ে টিকা না আসার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা আমরা দ্রুততম সময়ে মোকাবিলা করেছি।’

আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার দ্রুত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় টিকার ব্যবস্থা করে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রথমে হামপ্রবণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা থেকে টিকাদান শুরু করি, যেখানে এখন সংক্রমণের হার শূন্য। এরপর সিটি করপোরেশনগুলোতে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে ক্যাম্পেইন শেষ হলেও নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমের মাধ্যমে যারা টিকা পায়নি, এমন প্রতিটি শিশুকে খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১২২ শতাংশ।’

হামের টিকাদান কার্যক্রম অতীতের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতের ব্যর্থতার জন্য যদি দশটা মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিই আর হাম যদি রোধ না করতে পারি তাহলে কি কোনো লাভ হবে? আমরা যদি শিশুর সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মায়ের বুক ভরা না রাখতে পারি, আমি কি আল্লাহর কাছে রক্ষা পাব ওইটা বলে যে আমি ফাঁসি দিয়েছি? আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।’

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আজ চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক দেখেছি। ইমার্জেন্সি বিভাগ, হাম ওয়ার্ডসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে চিকিৎসকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। সারা দেশেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হচ্ছে। মাত্র তিন মাসে রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছি।’

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যাসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকে। এই চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। হাসপাতালের সার্বিক মানোন্নয়নে স্বাস্থ্য বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’

এক দিনের সফরে সোমবার সকালে কুমিল্লায় পৌঁছে প্রথমে ১৩০ শয্যাবিশিষ্ট কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান, রোগীদের অবস্থা ও হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে এক রোগীর স্বজন মন্ত্রীকে বলেন, তাঁর আগমন উপলক্ষে যেভাবে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, সেটি সব সময় বজায় থাকবে কি না। পরে হাসপাতালের পরিচালককে সব সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া খাবারের মানও যাচাই করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের খাবার খেয়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে এই মান সব সময় থাকে কি না, সেটাও আমি খোঁজখবর রাখব।’

পরিদর্শনকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহজাহান, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী (আবু), কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদসহ (ওয়াসিম) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।