মহাসড়কের পাশে পেট্রলপাম্পের কাছে বসে ছিলেন এক নারী। কোলে ছোট শিশু। সামনে সড়কে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। তাঁর স্বামী মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছিলেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পদ্মা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দৃশ্য দেখা যায়।
কাছে গিয়ে জানা যায়, ওই নারীর নাম রাফিজা আক্তার। তিনি বলেন, ‘গাড়ির হর্ন আর ধুলাবালুর মধ্যে আধা ঘণ্টার বেশি সময় বসে আছি। বাচ্চার বাবায় হুন্ডার (মোটরসাইকেল) তেল না পাইলে তো যাইতে পারতেছি না।’
লাইনে দাঁড়িয়ে কথা হয় ওই নারীর স্বামী লোকমান হোসেনের (৪০) সঙ্গে। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাগজান গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক কাজে সিঙ্গাইর উপজেলার বায়রা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি যাবেন। লোকমান হোসেন বলেন, ‘দুই কিলোমিটার আগে ভাটবাউর এলাকায় আরেকটা পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন দেখে এই পাম্পে আসি। এখানেও লম্বা লাইন। আধা ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করছি। তেল না পাইলে আমরা যাইতে পারতেছি না, বাড়িও ফিরতে পারব না।’
মানিকগঞ্জে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পেট্রলপাম্পগুলোয় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেলের চালকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার এই দুর্ভোগে শুধু চালকেরাই নন, পরিবারের সদস্যরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
এদিকে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। মোটরসাইকেলের চালকেরা সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না। রাইড শেয়ারিং সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি কাজেও দেরি হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, পেট্রলপাম্পের সামনে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি। এই সারি পাম্প ছেড়ে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে চলে গেছে। মহাসড়কে বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর প্রতিটি মোটরসাইকেলের চালক ২০০ টাকার জ্বালানি তেল পাচ্ছেন।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় পেট্রলপাম্পগুলোয় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। তেল নিতে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে মোটরসাইকেলের চালকদের। কখনো তেল পেতে সকাল থেকে দুপুর বা দুপুর থেকে সন্ধ্যাও হয়ে যাচ্ছে।
একই পাম্পে কথা হয় আরও কয়েকজন চালকের সঙ্গে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কেউ কেউ জানান, তেলের জন্য তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, তবু নিশ্চয়তা নেই, তেল পাওয়া যাবে কি না।
পেট্রলপাম্পের ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল আসায় চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁরা সীমিত পরিমাণে তেল বিতরণ করছেন, যাতে সব গ্রাহক অল্প হলেও তেল পান।
জ্বালানি তেল বিক্রয়কারী পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মানিকগঞ্জ ও সাভার অঞ্চলের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটে তাঁরাও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। আগে একেকটি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ১৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল (পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল) সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তাঁরা ১০ হাজার লিটার তেল পাচ্ছেন।