প্রথম আলো: ২৯ বছর পর বাবা হত্যার মামলায় রায় পেলেন। প্রথম খবরটি কাকে দিয়েছেন?

মোস্তাফিজুর: আমি রায় ঘোষণার পর প্রথমেই মাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছি। মা রায় শুনে অনেক খুশি হয়েছেন।

প্রথম আলো: রায়ের খবরটি গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। আপনি কি মানুষের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?

মোস্তাফিজুর: আমার এলাকার সাধারণ মানুষ অনেক খুশি হয়েছে। আইনজীবীরা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে আমার মা আমার বাবা হত্যার বিচার দেখে যেতে পারছেন, এটাই আমার জন্য গর্বের।

প্রথম আলো: আপনার বাবাকে হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল?

মোস্তাফিজুর: জমি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ। ১৯৯৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে বাবা ঘরে বসে তাঁর ভাই মোতাহার হোসেন ও প্রতিবেশী মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলেন। সে সময় দেশি অস্ত্রসহ আসামিরা ঘরে ঢুকে বাবাকে হত্যা করে।

প্রথম আলো: আপনারা ভাইবোন কতজন?

মোস্তাফিজুর: আমরা পাঁচ ভাই। আমি সবার ছোট।

প্রথম আলো: বাবার অবর্তমানে আপনাদের সংসার কীভাবে চলেছে?

মোস্তাফিজুর: পৈতৃক সম্পত্তি থেকে আমাদের আয় আছে। ঘরভাড়া দিয়েও আয় হয়। ভাইয়েরা চাকরি ও ব্যবসা করেন।

প্রথম আলো: আপনি কি বাবা হত্যার বিচার পেতেই আইনজীবী হয়েছেন?

মোস্তাফিজুর: আসলে আমার আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। ২০০৬ সালে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগে (স্নাতক) ভর্তি হই। ওদিকে মা ও ভাইয়েরা বাবা হত্যার বিচারের জন্য আদালতে ঘুরে হতাশ হচ্ছিলেন। মা একদিন বাড়িতে বলছিলেন, তাঁর একজন আইনজীবী সন্তান থাকলে স্বামী হত্যার বিচারটা পেতেন। এরপর আমি মায়ের উৎসাহে ইংরেজি বিভাগে পড়া বাদ দিয়ে আইনে ভর্তি হই।

প্রথম আলো: আইন পড়েছেন কোথায়?

মোস্তাফিজুর: ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমার লেখাপড়ার জন্য বড় ভাইয়েরা খরচ দিয়েছেন। আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।

প্রথম আলো: হত্যা মামলায় তো রাষ্ট্র নিয়োজিত একজন আইনজীবী থাকেন। আপনার ভূমিকা কী ছিল?

মোস্তাফিজুর: আমি আইনজীবী হিসেবে মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা, আনুষঙ্গিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা, আদালতকে সন্তুষ্ট করে মামলার রায় যেন দ্রুত হয়, সে ক্ষেত্রে কাজ করেছি।

প্রথম আলো: তাহলে আইনজীবী হওয়া কি সার্থক হলো?

মোস্তাফিজুর: অবশ্যই। ১০ বছর ধরে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে মামলা পরিচালনায় আমি সহযোগিতা করেছি। বাবার মৃত্যুর আগে জমি নিয়ে এই পরিবারে আরও দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাবা হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবারে বিরোধের চর্চা শেষ হয়েছে বলে মনে করি।