আজ শনিবার সকালে দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জালাল মিয়ার বাড়ি থেকে মধ্যরাতে একদল চোর দুটি গরু চুরি করে। চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে জালাল মিয়ার স্ত্রী আছমা আক্তার চেঁচামেচি শুরু করেন। তবে ততক্ষণে গরু নিয়ে চোরের দলটি পালিয়ে যায়। আছমা আক্তারের চিৎকার শুনে দক্ষিণ মোহাম্মদপুরসহ পিপিয়াকান্দি, চিনামুড়া, ডেক্রিখোলা, সুরেরবাগ ও চক্রতলা গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন।

পরে স্থানীয় জালাল মিয়ার বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে চুরি হওয়া গরু দুটি উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় ওই মাঠের পাশে ধানখেতে লুকিয়ে থাকা মুছা, জুয়েল ও মনসুরকে আটক করে স্থানীয় লোকজন পিটুনি দেন। তিন যুবক গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাঁদের চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মুছা মারা যান। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জুয়েলের মৃত্যু হয়।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মুসার মাথায়, ডান পায়ে এবং জুয়েল ও মনসুরের পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

জালাল মিয়ার স্ত্রী আছমা আক্তার বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে তিনি দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুটি গরু কিনেছিলেন। গতকাল রাতে গরু চুরির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি চিৎকার বলে জানান।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জামাল বলেন, গত এক মাসে পিপিয়াকান্দি গ্রামের ১৬ থেকে ২০টি গরু চুরি হয়েছে। এক মাস ধরে গ্রামের প্রায় প্রতিটি কৃষক পরিবার রাত জেগে গরু পাহারা দিচ্ছেন। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লেয়াকত ফরাজী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফারুক আহমেদও একই কথা বলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মুছার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরি-ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে এর আগেও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন তিনি।

দাউদকান্দি মডেল থানার গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত এক যুবককে দাউদকান্দি মডেল থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।