গ্রেপ্তার দুজন হলো আদিতমারীর দুরাকুঠি এলাকার ইসমাইল হোসেন (৬৩) ও সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের মনজুর আলম (৪০)।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মানসিক ভারসাম্যহীন আমিনুল গতকাল সকালে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের দুরাকুটি বাজারে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে আটক করেন। পরে দুরাকুঠি বাজারসংলগ্ন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সামনের একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে তাঁকে লাঠি দিয়ে পেটান।

মামলার বাদী মমিনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে পাগল, এলাকার লোকজন জানে। তারে এমন কইরা গাছে রশি দিয়া বাইন্ধা ওরা যে নির্যাতন করল, তাগোর কি মায়া-দয়া নাই। আমি গরিব মানুষ, শক্তিতে পারমু না। তাই থানায় কেস দিছি। পুলিশ ধরছে। শুনতাছি কোর্টে গেলেই নাকি জামিন পাইব।’

থানা হেফাজতে গ্রেপ্তার ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ‘আমিনুলের অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ। তারে আটকের কথা শুনে দেখতে গিয়ে রাগের মাথায় দু-একটা বাড়ি দিছি। আমার ভুল হয়েছে, আমি অনুতপ্ত।’

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক লোকের সামনে আমিনুলকে বেঁধে মারপিট করা হচ্ছে। তখন ভুক্তভোগী চিৎকার করছেন। তখন ঘটনাস্থলের এক ব্যক্তি তাঁর মাকে খবর দেন। তিনি এসে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে অনুনয়-বিনয় করেন। পরে ওই তরুণকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ভিডিওর নিচে মন্তব্য করে অনেকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরপর পুলিশ ওই যুবকের মায়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। ভিডিও দেখে নির্যাতনকারীদের পরিচয় শনাক্তের পর অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।