রুয়েটে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ, ৯ সহপাঠীর বহিষ্কার চেয়ে ক্লাস বর্জন

রুয়েটে ছাত্রীদের নিপীড়নের অভিযোগে বিচার চেয়ে ক্লাস বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে রুয়েট ক্যাম্পাসেছবি: প্রথম আলো

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) নারী সহপাঠীদের নিপীড়ন, গোপনে ছবি তোলা এবং শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে ৯ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

আজ বেলা ১১টার দিকে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে মানববন্ধন শেষ করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যান। এ সময় তাঁরা ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই রুয়েটে হবে না’ এবং ‘পটেনশিয়াল রেপিস্টের ঠিকানা, এই রুয়েটে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিএসই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৯ জন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে একই বিভাগের নারী সহপাঠীদের মানসিকভাবে নিপীড়ন করে আসছেন। ক্লাস চলাকালীন মেয়েদের অগোচরে ছবি তুলে নিজেদের মেসেঞ্জার গ্রুপে শেয়ার করা এবং সেখানে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে আসছেন। এ কারণে গত বছর নভেম্বরে বিভাগের সভাপতি এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে তদন্ত কমিটি করা হলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সুজয় রায় বলেন, ক্লাস শুরুর প্রথম থেকেই এসব বুলিং চলছিল। গত বছর মে মাস থেকে এটি চরম আকার ধারণ করে। তাঁরা শুধু সহপাঠীদেরই নয়, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা, এমনকি শিক্ষকদের স্ত্রী–সন্তানদের নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা মেনে নেওয়া অসম্ভব। তিনি বলেন, অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা থামেননি। কিছুদিন আগেও ক্লাস চলাকালে তাঁরা মেয়েদের অগোচরে ছবি তুলে গ্রুপে ছড়িয়ে দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ১১ নভেম্বর বিভাগীয় প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবার থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অভিভাবকেরা তাঁদের বোনদের (ভুক্তভোগী) ফোন দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমনকি প্রধান অভিযুক্তের মা দুই দিন আগে বিভাগে এসে একপ্রকার হুমকি দিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফলাফল ভালো হবে না বলে তিনি হুমকি দেন।

দুপুরে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল আছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। গঠিত কমিটি দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।

তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগামী শনিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না।

জানতে চাইলে সিএসই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, আজকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেননি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।