চৌদ্দগ্রামে রাতভর ভাঙচুর–অগ্নিসংযোগের পর দুপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত ১৫
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাতভর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর আজ সোমবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে দুই পক্ষই দাবি করছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় জামায়াতের ৫ জন এবং বিএনপির অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন নিজ নিজ দলের নেতারা।
আজ দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা বাজারে। এর আগে গতকাল রোববার রাত ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যানবাহনে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন। তিনি বলেন, দুই দলের মধ্যে ছোটখাটো কিছু ঝামেলা হয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের কারও কাছ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা গ্রামে বিএনপি কর্মী বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে কয়েকটি ঘরে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুরের কিছুক্ষণ পর ধনিজকরা বাজার এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে একদল দুর্বৃত্ত ভাঙচুর করে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় জামায়াত নেতা মু. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার প্রতিষ্ঠিত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। এতে বাসটির কিছু অংশ পুড়ে যায়। বাসে আগুন দেওয়ার পর একই সময়ে শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া তেলিপুকুর পাড়ে জামায়াত সমর্থক নাছির উদ্দিনের মুদিদোকান, পাশের জামায়াত কার্যালয়, ধনিজকরায় জামায়াত কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকান ও কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুরেও জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
রাতভর এসব ঘটনার জেরে আজ দুপুরে ধনিজকরায় জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ইসমাইল গাজী, শুভপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন, জামায়াতের সমর্থক তাসকিনসহ কয়েকজন আহত হন। পরে উপজেলার মুন্সীরহাটেও দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে চারটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এদিকে মাদ্রাসায় পরিবহনে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে ও দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ দুপুরে নানকরা এলাকায় মানববন্ধন করেছে আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দ্রুত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
বিএনপির হামলায় নিজেদের অন্তত পাঁচজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন। আজ বিকেলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি। এ জন্য রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে আমাদের তিনটি নির্বাচনী অফিস আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে তারা। শুধু আমাদের দলীয় কার্যালয়ই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাস ও জামায়াত অফিসের পাশে মুদিদোকানেও আগুন দিয়েছে। জনসমর্থন না থাকায় তারা (বিএনপি) জ্বালাও-পোড়াও করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করাতে চাইছে।’
তবে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিনের দাবি, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নিজেরাই তাঁদের কার্যালয়ে আগুনে দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আজ বিকেলে গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের লোকজন পরিকল্পিতভাবে গতকাল রাতে আমাদের কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে দলীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করেছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে ধনিজকরা এলাকায় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার জন্য জামায়াতের নেতা–কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ইসমাইল গাজী ও শুভপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের পিটিয়েছে।’
গিয়াস উদ্দিন জানান, আজ দুপুরে ধনিজকরা ও মুন্সীরহাট বাজারে জামায়াত-শিবিরের হামলায় বিএনপির ১০ থেকে ১২ জন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।