বকুল সিদ্দিকী ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হোমনার কোনাবাড়ি ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দী এলাকার শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। তবে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, হোমনার কোনাবাড়ি ঘাট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর হয়ে নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দী এলাকার শেখ হাসিনা সেতু পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার।

বকুলের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন বলেন, ছোটবেলা থেকেই কমবেশি সাঁতার কাটেন বকুল সিদ্দিকী। তবে সাঁতারু হওয়ার নেশাটা তাঁকে পেয়ে বসে ১৯৯৫ সালে। ওই সময় তিনি থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত সাঁতার কাটেন। সমুদ্রপথে ওই সাঁতার ছিল প্রায় ১৮ কিলোমিটারের। সেই থেকে তিনি নিয়মিত সাঁতারে যুক্ত আছেন। সাঁতার কাটতে গিয়ে বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে। এর আগেও এক সাঁতার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হিসেবে এক লাখ টাকা পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি।

বকুল সিদ্দিকী আজ নদীপথে হোমনা থেকে সাঁতরে নরসিংদী আসবেন, বিষয়টি আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়ায় তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিলেন কয়েক শ মানুষ। এ ছাড়া হোমনা থেকেই ট্রলার ও স্পিডবোটে করে অনেক মানুষ তাঁর পিছু পিছু আসেন। পুরোটা সময় ১০ জন ভলান্টিয়ার তাঁর পিছু পিছু স্পিটবোটে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। নরসিংদী শহরের শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় তিনি পৌঁছাতেই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। করতালি দিয়ে অপেক্ষমাণ মানুষ বকুলকে স্বাগত জানান।

সাঁতার শেষে বকুল সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নদীপথে টানা ৪৮ ঘণ্টা সাঁতার কাটার রেকর্ড আছে। আমার স্বপ্ন ওই রেকর্ড ভেঙে গিনেস বুকে নাম লেখানো। এ জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমি ঘোষণা দিয়ে নদীপথে সাঁতার কাটি। ভবিষ্যতে নরসিংদী থেকে নদীপথে সাঁতার কেটে রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’

এর আগে সাঁতরে গন্তব্যে পৌঁছতে পারলে নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বকুল সিদ্দিকীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে গন্তব্যে পৌঁছার পর নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া তাঁর হাতে ফুল, ক্রেস্ট ও গলায় টাকার মালা পড়িয়ে দেন। এ সময় আগামী সপ্তাহে আয়োজন করে তাঁর হাতে পুরস্কারের এক লাখ টাকা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রিপন সরকার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তৌহিদা সরকার।

নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বকুল সিদ্দিকীকে নিয়ে আমরা নরসিংদী মানুষ গর্ব করি। তাঁর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম ওঠানোর স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি। তিনি তাঁর স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন