দু–তিন দিনের মধ্যে অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দু–তিন দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেছেন, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের হাতে এসেছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ ও এসআরবি–১১ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এ কথা বলেন। যুবদল কর্মী আবু কাউছার হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও মামলার প্রধান আসামি তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদসহ দুজনকে আটকের বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকেরা অপ্রতিম হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে চান। জবাবে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আমাদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, চিকিৎসা–সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র—সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী দু–তিন দিনের মধ্যে আমরা বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করব, ইনশা আল্লাহ।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও এসআরবি-১১ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: আবদুর রহমান

গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে দুজন কিশোর। পরে তদন্তে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে এলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি তাঁর বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা করেছিল পুলিশ।

গত ২২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তুহিনসহ তিন আসামি কুমিল্লার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।