খুলনায় ভোটকেন্দ্রে নেতার মৃত্যু, জামায়াতের বিরুদ্ধে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ বিএনপির

লাশপ্রতীকী ছবি

খুলনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মহানগর বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচি (৬০) মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।

বিএনপির অভিযোগ, মহিবুজ্জামান কচি সকালেই খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কেন্দ্রের ভেতরে ভোট চাওয়ার বিরোধিতা করলে প্রতিপক্ষ জামায়াতের লোকজন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মহিবুজ্জামান কচি দীর্ঘদিন হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন। তিনি সকালেই খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুর রহিম জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাঁকে বাধা দিলে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন এবং তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। পরে তাঁকে বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আবদুর রহিম মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিলেন। আমি বাধা দিই। তখন তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি, তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

খুলনা–২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় বিএনপিতে বিষাদের ছায়া। সকালে আলিয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে জামায়াত নেতার আঘাতে খুলনা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অবিলম্বে জামায়াত নেতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তারের এবং যাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

সাতক্ষীরায় ভোট দিতে যাওয়ার পথে মৃত্যু

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ভোট দেওয়ার জন্য বের হয়ে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। আজ সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের মাছিহারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম অনাথ ঘোষ (৬৫)।

মৃত ব্যক্তির ভাতিজা জয়দেব ঘোষ বলেন, তাঁর কাকা সকালে নাশতা শেষে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে আটটার দিকে বের হন। তিনি মাছিহারা প্রাইমারি স্কুলে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পাঁচমাথা নামক স্থানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে দ্রুত তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাহানুল ইসলাম বলেন, অনাথ ঘোষকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আকস্মিক আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

পোলিং কর্মকর্তার মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কাচারিপাড়া এলাকায় সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রে সকাল আটটার দিকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ২ নম্বর বুথের পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮)। পরে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষক ছিলেন।

সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শামীম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কর্মরত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, লাশ হাসপাতালের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

মানিকগঞ্জে ভোট দিতে গিয়ে একজনের মৃত্যু

মানিকগঞ্জে ভোট দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ মারা গেছেন এক ভোটার। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম বাবু মিয়া (৭০)। তিনি পেশা ভ্যান চালক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, সকালে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসেন তিনি। চারদিকে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভিড়ের মধ্যেই শান্তভাবে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বাবু মিয়া। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আকস্মিক তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনার সততা নিশ্চিত করে ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন বলেন, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।