কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার, অস্ত্র জমা

কিশোরগঞ্জে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকারে স্বেচ্ছায় মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ ও দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে বক্তব্য দেন অতিথিরাছবি: প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জে একদল মাদক ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করে শপথ নিয়েছেন। দিয়েছেন দেশীয় অস্ত্র জমা। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় জেলা শহরের মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের আস্তানা হিসেবে পরিচিত বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পুলিশ প্রশাসন। এতে মাদক ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, মাদক মামলায় জামিন হলে আবার যাতে অন্য মামলায় কারাগারে থাকতে হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য। অনুষ্ঠানে ১০ থেকে ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার শপথ নেন এবং পুলিশের কাছে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।

মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ গ্রহণ শেষে মাদক ব্যবসায়ীরা বলেন, এত দিন তাঁরা অন্ধকার জগতে ছিলেন। কোটি টাকা কামালেও রাতে ঘরে ঘুমাতে পারতেন না। এখন সব ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবার নিয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাতে চান। এই পথ ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে সমাজে মিশতে চান। পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, তাঁদের নামে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে যেন স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়।

এ সময় এক নারী মাদক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী এই ব্যবসা ছেড়ে আলোর পথে চলে এসেছি। তবে আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার আপন বড় ভাই এখনো এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে এই পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করুন।’

মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিজে সব সময় সক্রিয় থাকবেন বলে জানান সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। যেকোনো মূল্যে মাদক নির্মূল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সংসদে আলোচনা করেছি, যারা মাদক বিক্রেতা, তাদের জন্য আইনটা আরও কঠোর করার জন্য। মাদক বিক্রয়টা বন্ধ করতে হবে। বিক্রি না করতে পারে তাহলে সেবন করতে পারবে না। আর কারা কারা মাদক বিক্রি করে, এটা সবাই জানে। তাদের তালিকা তৈরি করে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে এবং মাদক মামলায় জামিন হলে  যাতে আবার অন্য মামলায় কারাগারে থাকতে হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করব।’

যাঁরা মাদক ব্যবসা ছেড়ে ভালো হতে চান, তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘ভালো জীবন যাপন করতে চান—আমরা অভিনন্দন জানাব এবং তাঁদের পুনর্বাসনে আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। আপনারা মাদক ছেড়ে আসুন। দেখা যাবে, আপনি মাদক বিক্রি করছেন, আপনার সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই মাদক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এটাকে যেভাবেই হোক রোধ করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, নারী ব্যবসায়ীসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে নিজ নিজ অস্ত্র জমা দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সাধুবাদ। তবে এই ছেড়ে দেওয়া যেন সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার মতো না হয়। আজ ছেড়ে দিয়ে দুই দিন পর আবার শুরু করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আপনাদের নামে যেসব মামলা রয়েছে, তা পুলিশ প্রশাসন দেখবে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করে আপনাদের বৈধ পথে আয়ের কী ব্যবস্থা করা যায়, সেটা আমরা দেখব, যাতে সংসার চালাতে পারেন। অন্যথায় সংসারে অভাব দেখা দিলে আবার এই পথে ফিরে আসার শঙ্কা থাকে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরীফুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া প্রমুখ।