বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫০ জন। শিক্ষক আছেন ১২ জন। কর্মচারীর সংখ্যা ৩ জন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক আবু তাহের তাঁদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাহাউদ্দীন ভূঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক

আবু তাহের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে মানেন না। তিনি চাইতেন, কমিটিকে ডিঙিয়ে সব

কাজ একাই করতে। কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে সমন্বয়হীনতার জন্যই বিদ্যালয়টিতে আজ এই অবস্থা।

কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সভাপতির বিরুদ্ধে আমি শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি
আবু তাহের, প্রধান শিক্ষক

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যালয়টির একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সেরা প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে চাকরি না দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। চলতি মাসে প্রধান শিক্ষক আবু তাহের ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়ার মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। এর আগে ২৮ জুলাই প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের জবাব চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় পরিচালনা কমিটি। এর জবাব না দিয়ে গত ২৩ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দেন প্রধান শিক্ষক। ১২ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরকে সাময়িক বরখাস্ত করেন সভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়া।

আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক কোনো বৈঠকে আসেন না। তিনি কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কোনো কাজ করেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কমিটি ও অন্য শিক্ষকেরা অতিষ্ঠ হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন তিনবার। তিনি একবারও এর জবাব দেননি। এসব কারণে কমিটি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, ‘সভাপতির বিরুদ্ধে আমি শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এই অভিযোগের

তদন্ত চলাকালে তিনি আমাকে কোনোভাবে

সাময়িক বরখাস্ত বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্যই তাঁরা এসব অভিযোগ করেছেন।’

নোটিশে প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের বিরুদ্ধে শিক্ষক ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, বিদ্যালয়ে না এসেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর বারবার আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও সভায় উপস্থিত না হওয়া, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ-মুঠোফোনসহ বিভিন্ন জিনিস ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, বিদ্যালয়ের রেজল্যুশন ও নোটিশ খাতা বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করতে না দেওয়া ও বাসায় নিয়ে যাওয়া, বিদ্যালয়ের তাহবিল থেকে দীর্ঘদিন আগে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়া, সভাপতির সঙ্গে অশালীন আচরণ করা, নবনির্মিত ভবন থেকে বেআইনিভাবে কমিশন নেওয়া, ঈদুল আজহার সময় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস না দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আবু তাহের গত ২৩ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সভাপতি হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিটির প্রথম সভা না করা, নোটিশ খাতা ও রেজল্যুশন খাতা ব্যক্তিগতভাবে কিনে তাতে বাসায় বসে কমিটির কিছুসংখ্যক সদস্যের স্বাক্ষর রাখা, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ঠিকাদারের কাছ থেকে উন্নয়নের জন্য পাওয়া ৭০ হাজার টাকা সাধারণ তহবিলে জমা না দিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার মাটি ভরাট করে বাকি ৬০

হাজার টাকা আত্মসাৎ করা, আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে এককালীন ১৫ হাজার টাকা জমা না দেওয়া, কিছু শিক্ষককে নিয়ে গ্রুপিং করা ও বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার অভিযোগ আনা হয় সভাপতির বিরুদ্ধে।

শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিজের দোষ ঢাকার জন্য তিনি শিক্ষা বোর্ডে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তদন্ত হলেই প্রমাণিত হবে। তাঁর দেওয়া এসব অভিযোগ মিথ্যা।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সভাপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের দেওয়া একটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। প্রধান শিক্ষককে নোটিশের বিষয়ে তিনি জেনেছেন। তবে সাময়িক বরখাস্তের ব্যাপারে কিছু জানেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন