১৯৯৬ সালের পর প্রথম দলীয় প্রার্থী পেয়ে বিএনপিতে উচ্ছ্বাস

পাবনা–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শামসুর রহমান (ডানে)ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ (সাঁথিয়া উপজেলা) আসনে দীর্ঘদিন পর বিএনপি নিজেদের দলীয় প্রার্থী পেয়েছে। ১৯৯৬ সালের পর আসনটিতে মাত্র একবারের জন্য (২০১৮ সাল) ধানের শীষ প্রতীক থাকলেও সেখানে সরাসরি বিএনপির কোনো নেতা প্রার্থী ছিলেন না। এবার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত মো. শামসুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন আবু সাইয়িদ এবং পরে তিনি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এরপর জোট রাজনীতির কারণে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি আসনটি ছেড়ে দেয় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির প্রয়াত মতিউর রহমান নিজামীর জন্য। আর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় ওই দুটি সময়েও তাঁদের কোনো প্রার্থী মাঠে নামেনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক ফিরে এসেছিল। কিন্তু ওই সময়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নিজেদের দলের প্রার্থী পাননি। সে সময় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ গণফোরামে যোগ দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। প্রতীক বিএনপির হলেও প্রার্থী অন্য দল থেকে আসায় তৃণমূলে একধরনের অপূর্ণতা ছিল।

এবার পাবনা-১ আসনে মো. শামসুর রহমান বিএনপির সরাসরি দলীয় প্রার্থী হওয়ায় মাঠের চিত্র বদলেছে। শুরুতে আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরে তিনি তা প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে শামসুর রহমানের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এতে বিএনপির ভেতরে ঐক্যের বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপির সাত থেকে আটজন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও তাঁরা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন

সাঁথিয়া পৌর এলাকার বিএনপির কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে মনে হইছে অন্য দলের জন্য ভাড়া খাটতেছি। অথচ এবার আমরা একেবারে নিজের প্রার্থী পাইছি। এ জন্য আমাগরে খুশি আর উৎসাহের শেষ নাই।’
দলীয় ঐক্যে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন শামসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রার্থিতা নয়, এটি সাঁথিয়া উপজেলা ও পাবনা-১ আসনের বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। বহু বছর পর দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটিকে আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি। নেতা-কর্মীদের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী।’

এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনের সীমানাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ ও বেড়া উপজেলার আংশিক নিয়ে আসনটি গঠিত ছিল। নতুন সীমানা নির্ধারণে এখন পুরো আসন কেবল সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় তিন দশক পর দলীয় প্রার্থী ফিরে পাওয়া এবং নতুন সীমানা—এই দুই পরিবর্তনে পাবনা-১ আসনের রাজনীতিতে নতুন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে পাবনা-১ আসনে আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী করা হয়েছে আসনটির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের প্রয়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানকে। বাকিরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল গণি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম। তবে ভোটারদের মতে এই চারজনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির শামসুর রহমান ও জামায়াতের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের মধ্যে।

আরও পড়ুন