তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা এই বাগানে গত নভেম্বরে বারি সূর্যমুখী-২ জাতের কয়েক হাজার সূর্যমুখী ফুলের বীজ বপন করা হয়। বর্তমানে বীজ থেকে হওয়া প্রায় প্রতিটি গাছে ফুল ফুটেছে। দুপুরের পর থেকে সূর্যমুখী বাগানে নানা বয়সের মানুষ বেড়াতে আসেন।

শত শত মানুষের ভিড়ে বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষের। মানুষ যেন বাগানের ভেতরে বা পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে বাগান নষ্ট না করেন এবং ফুলে হাত না দেন, এ জন্য সার্বক্ষণিক হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে, কখনো হুইসেল আবার কখনো মুখে নিষেধ করে বাগান রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছেন দুজন মালি। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম আসাদ মোল্লা (৫৮)। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ এ ফুলের বাগান দেখতে ও ছবি তুলতে আসেন। শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে জনস্রোত নামে। ওই সময় মানুষ যাতে ফুলে হাত না দেন বা বাগানের ক্ষতি না করেন, সে জন্য আমরা সব সময় সতর্ক থাকি। কেউ খেতের ভেতর যেতে চাইলে হ্যান্ডমাইক দিয়ে নিষেধ করা হয়।’

১৩ জানুয়ারি বেলা তিনটার দিকে সূর্যমুখী বাগানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের পদচারণে ফুলের বাগানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিশু, নারী, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবকসহ সব বয়স ও শ্রেণির মানুষ এখানে এসেছেন। সবাই ঘুরছেন বা ছবি তুলছেন। কেউ কেউ বাধা উপেক্ষা করে বাগানের ফুলের গাছের মধ্যে ঢুকে পড়ছেন।

ছবি তুলতে দেখা যায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী মিতু ঘোষকে (২৫)। তিনি বলেন, ‘আজ পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসেছি। সবাই মিলে ছবি তুলছি, পপকর্ন খাচ্ছি। এখানে খুব সুন্দর সময় কাটছে।’

ফরিদপুর শহরের হেলিপোর্ট বাজারের বাসিন্দা গৃহিণী সেতু ঘোষ (৩৪) বলেন, ‘প্রতিবছর এই সময়টাতে সূর্যমুখী বাগান একটা ছোটখাটো পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। গত বছর কয়েকবার এখানে ঘুরতে এসেছি। এ বছরও দু–তিনবার আসা হয়ে গেছে। এখানে বিকেলে ঘুরতে এলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও শহরের কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নেওয়া যায়।’

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক ফুল দেখতে ভিড় করেন। শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১৮–২০ হাজার হয়। ১৫ বছর ধরে এখানে সূর্যমুখীর চাষ হলেও পাঁচ–ছয় বছর ধরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।

বিএডিসির ফরিদপুর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণকেন্দ্রের উপসহকারী পরিচালক মো. রাশেদ খান বলেন, সূর্যমুখীর তেল কোলেস্টেরলমুক্ত ও শরীরের জন্য উপকারী বলে এর চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি বর্তমান সরকার তেল উৎপাদনে জোর দিয়েছে। সে হিসেবে চলতি বছর শর্ষে ও সূর্যমুখীর চাষ বেড়েছে।