স্যান্ডেল ও পোশাক দেখে পুকুরে নেমে পাওয়া গেল দুই বোনসহ তিন শিশুর লাশ

পানিতে ডুবে মৃত্যুপ্রতীকী ছবি

পুকুরপাড়ে স্যান্ডেল ও পোশাক রেখে গোসলে নেমেছিল দুই বোনসহ তিন শিশু। কিন্তু তারা পুকুর থেকে আর ওপরে উঠতে পারেনি। পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের জামদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া তিন শিশু হলো জামদিয়া গ্রামের নিছার আলীর মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৩) ও সুলতানা আক্তার (১০) এবং একই গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে ফাহিমা খাতুন (১০)। এর মধ্যে লামিয়া ষষ্ঠ শ্রেণি, সুলতানা চতুর্থ শ্রেণি এবং ফাহিমা খাতুন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

গোসলে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজতে বের হন। পুকুরপাড়ে গিয়ে তিনজোড়া স্যান্ডেল ও পোশাক পরে থাকতে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তিন শিশুর নিথর দেহ পাওয়া যায়।
আবদুর রউফ, লামিয়া ও সুলতানার দাদা

স্বজনরা জানান, আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে লামিয়া, সুলতানা এবং ফাহিমা মিলে ফাহিমার দাদা ইকরাম মোল্যার পুকুরে গোসল করতে যায়। পুকুরটির অবস্থান বাগানের মধ্যে। কম লোকই পুকুরটিতে গোসল করে। পুকুরপাড়ে স্যান্ডেল এবং গোসলের পর পরার জন্য পোশাক রেখে তারা পুকুরে গোসল করতে নামে।

লামিয়া ও সুলতানার দাদা আবদুর রউফ বলেন, গোসলে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাদের খুঁজতে বের হন। পুকুরপাড়ে গিয়ে তিনজোড়া স্যান্ডেল ও পোশাক পরে থাকতে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তিন শিশুর নিথর দেহ পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাদের বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জালাল আলম তিন কন্যাশিশুর পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।