ভোটের পরে নব্য আ.লীগের লোকজন হামলা করছে, অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ বিশ্বাসের সংবাদ সম্মেলন। শনিবার দুপুরে বেলকুচি পৌর শহরের কামারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতেছবি: প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস। শনিবার দুপুরে বেলকুচি পৌর এলাকার কামারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটের পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ছত্রচ্ছায়ায় বহিরাগত ও নব্য আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

আবদুল লতিফ বিশ্বাস স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সংসদ সদস্য আবদুল মমিন মন্ডল। তিনি নৌকা প্রতীকে ৭৭ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আবদুল লতিফ বিশ্বাস পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৮৩ ভোট। ঈগল প্রতীকের পক্ষে যাঁরা নির্বাচনে কাজ করেছেন, তাঁদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রার্থী।

লিখিত বক্তব্যে আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর তাঁরা নির্বাচনে অংশ নেন। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে যিনি জয়ী হয়েছেন, তাঁরা যেমন আওয়ামী লীগের লোক, তেমনি যাঁদের ওপর হামলা হচ্ছে, তাঁরাও আওয়ামী লীগের। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের কেউ বহিরাগত, আবার কেউ নব্য আওয়ামী লীগ।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ করে আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, শতাধিক মানুষের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। অনেক নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁদের অনেকে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, ঈগলের সমর্থক প্রায় দুই হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বাড়িছাড়া। তাঁরা বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে আছেন। তাঁদের পরিবারকে অব্যাহতভাবে হত্যা ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর ওপর বিএনপি-জামায়াতের লোকজন কখনো হামলার সাহস পায়নি। এখন মমিন মন্ডলের ছত্রচ্ছায়ায় নব্য আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা করছে। এটি বড় লজ্জার বিষয়।’

প্রশাসনের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। থানা-পুলিশ ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেও লাভ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। যেসব জায়গায় অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সাতটি মামলা হয়েছে। আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে বলে জেনেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের নৌকা প্রতীকের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মুঠোফোনে সতর্ক করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় সভা ডেকে পত্রের মাধ্যমে আবার তাঁদের সতর্ক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশা নূর বিশ্বাস, বেলকুচি পৌরসভার মেয়র সাজ্জাদুল হক, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন ইউপির সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ভুক্তভোগীদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।