রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ এনে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। প্রকাশ্য জনসভায় দেওয়া তাঁর এমন বক্তব্য গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর পর সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে মার্শাল রাজশাহী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রামাণিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আসনটির বিএনপি প্রার্থী ডি এম ডি জিয়াউর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাগমারায় বিএনপির সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সাইফুল ইসলাম বক্তব্যের একপর্যায়ে বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই, এখানে যদি কোনো প্রশাসন, এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের কোনো লোক থাকেন, তাহলে একটু দয়া করে কান খুলে শোনেন। কয়েক দিন থেকে আমরা লক্ষ করেছি, অন্য কোথাও কোনো ঘটনা ঘটে নাই; শুধু বাগমারার মাটিতে বিএনপির সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আজ থেকে যদি এসব হয়রানি বন্ধ না করেন, তাহলে ১৩ তারিখের পরে আমরাও আপনাদের সে ব্যবস্থা করব।’
জেলা বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, জেলা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ভোট চাইলে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কী ধরনের হয়রানি বা কাদের হয়রানি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বাগমারার পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটিকে জানানো হয়েছে। উভয় প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) আছে।
একই কথা বলেছেন বিএনপির প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বাগমারায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে।
বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা ওই জনসভায় বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, আবদুস সোবহান, যুবদল নেতা রেজাউল করিমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।