উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মথুরাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৩ জুন এক নারী যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯-এর ৩৪ (ঘ) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব৵বস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বদলগাছির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে তাঁর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এখন যিনি প্যানেল চেয়ারম্যান রয়েছেন, তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।’

ওই নারীর করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের আগ থেকে ওই নারীকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। তিনি মুঠোফোনে এবং বেশ কিছু চিঠির মাধ্যমে তাঁকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিতেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মাসুদ রানা ওই নারীর মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং তাঁর ফোনে থাকা বেশ কিছু গোপন তথ্য মুছে ফেলেন।

এসব কারণে ওই নারী মথুরাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মাসুদ রানার বিরুদ্ধে গত বছরের ১৩ জুন জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।