জমি, পাঁচতলা বাড়ি, স্ত্রীর নামে নগদ টাকাসহ যত অবৈধ সম্পদ ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের
দুর্নীতির মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার গাড়িচালক (বরখাস্ত) ও তাঁর স্ত্রীকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁরা হলেন তাজুল ইসলাম ও খাইরুন নেসা। আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এই রায় দেন।
দুদকের কৌশলী মোকাররাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে দুদক তাজুল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, স্ত্রী ও নিজের নামে তাজুল ইসলাম নগরের রৌফাবাদ এলাকায় ২০০২ সালে ৩ শতক জায়গা কিনে পাঁচতলা বাড়ি করেন। অথচ তাঁর স্ত্রীর আয়ের কোনো উৎস নেই। নিজের অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থকে বৈধতা দিতে স্ত্রীর নামে জমি কিনে পাঁচতলা বাড়ি করেন তিনি। তাঁরা বাড়িটির অর্ধেক নির্মাণের ব্যয় দেখান ২৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগের তিন উপপ্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে দুদক নিরপেক্ষ তদন্ত করে পায় ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে নগদ টাকাসহ অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায় আরও ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে মোট ৫৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ পায় দুদক।
২০২২ সালের ৫ মার্চ তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন নেসার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। তিন বছর তদন্ত শেষে চলতি মাসের শুরুতে আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন দুদক চট্টগ্রামের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে তাজুলের স্ত্রীর কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। স্বামীর অবৈধ আয়কে বৈধ করার জন্য স্ত্রীকে পোলট্রি খামারি সাজানো হয়।
চট্টগ্রাম শহরের ব্যস্ততম এলাকা রৌফাবাদের পাশেই পশ্চিম শহীদনগর এলাকা। এলাকার তৈয়্যবিয়া হাউজিং সোসাইটির সরু গলি ধরে কিছু দূর গিয়েই চোখে পড়ে তাজুলের পাঁচতলা বাড়িটি। সেখানে ১৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সাহেদ প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা হাজির ছিলেন।