বুধবারের অভিযানে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস, সাইলো রোড এলাকার রান্স অ্যাপারেলস লিমিটেড, জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া শাকিল নিটেক্স লিমিটেড ও ফতুল্লার হাজীগঞ্জ এলাকার ওয়েস্ট নিটওয়্যার লিমিটেডের গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অভিযানে পুলিশ, ডিপিডিসি, তিতাস গ্যাস, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন অংশ নেন।

এর আগে চলতি বছরের ৪ জুলাই ‘পরিবেশদূষণে বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জ: উত্তরণের উপায়’ নগরের আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারে গণশুনানিতে শীতলক্ষ্যা দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টেকসই উন্নয়নে দূষণ রোধে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান পরিবেশবাদী সংগঠনসহ নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় পানি অধিকার ফোরাম, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) যৌথ উদ্যোগে ওই গণশুনানির আয়োজন করে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অনেক ডাইং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকলেও তারা শতভাগ ইটিপি পরিচালনা করে না। পরিশোধনাগার পরিচালনায় ব্যয় কমাতে তারা সরাসরি তরল বর্জ্য নদীতে ফেলে দূষণ করে। সাবদী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন জানান, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। ডাইং কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে এখন মাছ তো দূরের কথা, পোকামাকড় জলজ প্রাণীও খুঁজে পাওয়া যাবে না। দূষণ-দখলসহ নানা কারণে শীতলক্ষ্যা নদীকে মেরে ফেলা হয়েছে।
তবে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা, গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপপরিচালক মামুন আবদুল্লাহ্। তিনি বলেন, যেসব কারখানার তরল বর্জ্যে নদী দূষিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেসব কারখানার দূষণের দায়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তারা পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইটিপি স্থাপন না করলে তাদের পুনরায় সংযোগ দেওয়া হবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় তরল বর্জ্য নির্গমনকারী ডাইং কারখানার সংখ্যা ৪৪১টি। এর মধ্যে পরিশোধনাগার (ইটিপি) আছে ৩২২টি। ইটিপি নেই এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১৯টি। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের রিট করে চলছে ২৩টি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৮টি কারখানার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের স্পেশাল আদালতে মামলা হয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দূষণের দায়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৩ কোটি ২৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। আদায় করা হয়েছে ৩৬ কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সভাপতি এ বি সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, অনেক ডাইং ও শিল্পকারখানা নদী দূষিত করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করছে না। তাই শীতলক্ষ্যাকে বাঁচাতে হলে দূষণের দায়ে সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন