চট্টগ্রামের বায়েজিদে পৃথকভাবে একাধিক স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের টুকরাগুলো মো. আনিস নামের এক যুবকের। তাঁর বাড়ি জেলার রাউজানে। পুলিশ জানিয়েছে, এক নারী বাসায় ডেকে নিয়ে প্রথমে আনিসের মাথায় মসলা বাটার নোড়া (শিল) দিয়ে আঘাত করেন। এরপর আরও দুজনের সহায়তায় আনিসের শরীর চাপাতি দিয়ে কেটে ছয় টুকরা করেন। পরে এসব টুকরা ফেলা হয় আশপাশের এলাকার খাল ও ভাগাড়ে।
আনিসের লাশ উদ্ধার এবং এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে বায়েজিদ থানায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, আনিস পেশায় কসাই। গ্রেপ্তার নারী জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেলে নগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসায় আনিসকে ডেকে আনেন তিনি। এরপর প্রথমে আনিসের মাথায় নোড়া দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাঁর ভাই ও আরেক যুবকের সহায়তায় আনিসের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর আনিসের দুই হাত ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। পুরো শরীর ছয়টি টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে ফেলা হয় আশপাশের খাল ও ভাগাড়ে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন পলিথিনে মোড়ানো দুটি হাত কুকুরের টানাটানি করতে দেখে থানায় খবর দেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিতে হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এতে আনিসের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তাঁর মুঠোফোন নম্বরের কললিস্টের সূত্র ধরে ওই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যেই নিহত আনিসের মাথাসহ শরীরের বাকি অংশও উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নারী বিবাহিত। তাঁর সঙ্গে আনিসের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। তবে সম্প্রতি দুজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে আনিসকে খুন করা হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহেদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার নারীর দাবি তাঁর সঙ্গে আনিসের কিছু ছবি রয়েছে। এসব ছবি দিয়ে জিম্মি করে আনিস তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই ও এক স্বজনের সহায়তায় আনিসকে খুন করেছেন।
ওসি আরও বলেন, নিহত আনিসের স্বজনেরা ওই নারীর দাবি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন। তাঁরা জানান, ওই নারীর কাছে আনিস দুই লাখ টাকা পাওনা রয়েছেন। এসব টাকা চাওয়ার কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে। তদন্তের পর এসব বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে বায়েজিদ থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি জাহেদুল কবির। গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ শনিবার সেই মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান তিনি।