ক্ষমা না চাওয়াই প্রমাণ করে একাত্তরের আগের ও পরের জামায়াত এক ও অভিন্ন

ময়মনসিংহে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরেছবি: প্রথম আলো

একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা না চাওয়াই প্রমাণ করে আগের ও পরের জামায়াত এক ও অভিন্ন।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ও মহান মে দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ এ কথা বলেন। ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে ময়মনসিংহ নগরের রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে শুক্রবার বেলা তিনটায় ওই শ্রমিক সমাবেশ হয়।

সমাবেশে সৈয়দ এমরান সালেহ বলেন, জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনকল্যাণে একে একে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল শ্রমজীবী মানুষও পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে পাবে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিলকারখানা আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি সরকার ভুলে যায়নি। অর্থনীতির ওপর চাপ থাকা সত্ত্বেও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজের নিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সৈয়দ এমরান সালেহ আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির চালিকা শক্তি হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমিকের ঘামেই দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। তাই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই দেশের উন্নয়ন টেকসই হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করছে।

ময়মনসিংহ জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু সাইদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিদুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে কারাগারে আটক থাকা শ্রমিক দলের নেতা–কর্মীদের ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক, নেতা–কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।